শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

বেরোবিতে মেঘবালিকার লোচনে জলতরুঙ্গ-এর মোড়ক উন্মোচন

সাইফুল্লাহ মাসুম , বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কর্মরত হাবিবুর রহমানের মেঘবালিকার লোচনে জলতরুঙ্গ-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার এই মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.শওকাত আলী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম ও […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২২:২৫

সাইফুল্লাহ মাসুম , বেরোবি প্রতিনিধি :

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কর্মরত হাবিবুর রহমানের মেঘবালিকার লোচনে জলতরুঙ্গ-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার এই মোড়ক উন্মোচন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.শওকাত আলী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম ও শহীদ আবু সাঈদ বই মেলার আহ্বায়ক ড.মো. ইলিয়াছ প্রামানিক। 

কথা হারিয়ে গেলেও তার ছোঁয়া রয়ে যায়,তার বাচনভঙ্গি মুগ্ধতা ছড়ায়। এভাবেই মেঘবালিকার লোচনে জলতরুঙ্গ-এর কাব্যগ্রন্থে কবিতার নানান পঙ্তি ফুটে উঠেছে।

এ কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা ও পঙতি কল্পনার জগতে হারিয়ে গিয়ে মানব-মানবীর আকুতি-মিনতি, প্রেম-বিরহ, মান-অভিমান শিল্পের তুলিতে চিত্রিত হয়েছে। কখনো কখনো মনের ক্যানভাসে আঁকা ছবি, আবার কখনো মোনালিসা ও পাবলো পিকাসো ক্যানভাসে হারিয়ে গিয়ে কাব্য জগতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে।

আবার কখনো কোন কবিতায় কপোক-কপোতীর মিলন ও বিরহের সমীকরণের মধ্যে যথাক্রমে বঁধূয়ার হাতের চা ও রান্নার কৌশল দেখে উপলব্দি করে নানান দৃশ্য উপমিত হয়েছে। এ কাব্যের রোমান্টিক ও বিয়োগান্তক ছন্দ কোন বাস্তব ঘটনা বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত হয়নি। লেখক, কবিগণ যেহেতু কথাসাহিত্যিক এবং দার্শনিক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

তাই কোন পঙক্তি, শব্দ বা বাক্য কারো জীবনের সাথে মিলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কবিতাকে প্রাঞ্জল, ছন্দ ও শ্রুতিমধুর করার জন্য বিভিন্ন ঘটনাবলীকে কল্পনার জগতে উপলক্ষ করা হয়েছে মাত্র। কাউকে ঠিক কেন্দ্র করে রচিত নয়। পাঠক এটা পড়ার সময় কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গিয়ে নিজেকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসীন করলে সেটা লেখক ও কবির জন্য অনেক প্রাপ্তির বিষয়।

কবিতার পাঠক সংখ্যা কম হলেও কবিতা সবার নিকট পছন্দনীয় বটে। তাই কবিতার প্রতি ভালবাসা ও অনুরাগ অব্যাহত থাকবে। আবৃত্তিকার ও পাঠক এ কবিতার সাথে কণ্ঠ ও সুর মেলাবে বলে মো. হাবিবুর রহমান এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ কাব্যগ্রন্থের লেখক মো. হাবিবুর রহমান। এ বইটি আইডিয়া প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির দাম মাত্র ৩০০ (তিনশত) টাকা মাত্র। বইটি অমর একুশে বইমেলা, শহিদ আবু সাঈদ বইমেলা এবং রকমারি ডট কম থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬ (ছেষট্টি) টি কবিতা রয়েছে।

নব্বই দশক ছিল নানাবিধ কারণে আলোচিত ও সমালোচিত। জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিবর্তনের কারণে মানুষের সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক জগতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। মো: হাবিবুর রহমান নানান কারণে আলোচিত এ নব্বই দশকের শেষের দিকে ইলিশের শহর খ্যাত চাঁদপুরের মুসলিম পরিবারের সম্ভ্রান্ত মীর বংশে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি মূলত মো: হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ছদ্মনামেও মসির তুলিতে তার চিন্তার নির্যাস ও সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক ও স্মাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি, সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে (স্পীঞ্জার ন্যাচার) রিসার্চ আর্টিকেল ও বইয়ের অনুচ্ছেদ রয়েছে। দেশে-বিদেশ যেমন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কাতার, এবং বাংলাদেশের নামকরা নানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ও বিভিন্ন গ্রন্থে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

গুগল স্কলার ও রিসার্চগেট এ তার গবেষণাধর্মী লেখা অধ্যয়ন ও উদ্ধৃত (সাইটেশন) করা হয়। তার লেখা মূলত জাগোনিউজ ২৪ ডট কম, দ্য নিউ ন্যাশন, দ্য এশিয়ান এইজ, দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড, বার্তা২৪ডট কম ইত্যাদি জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার লেখায় সমসাময়িক বিষয়াবলী, চিত্তের আকুতি ও মিনতি, বিবিধ টানাপোড়ন, সংকট ও আশার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

তাঁর কাব্যগ্রন্থে ছন্দের মিল, আধুনিক ও জীবনঘনিষ্ঠতার ছোঁয়া, রোমান্টিকতা, আবেগ-অনুভূতির মিশ্রণ ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কোথায়ও কোথায়ও আবার ছন্দের পতন ঘটলেও গদ্যকাব্যের রূপ অটুট রয়েছে।

তার এ কাব্যগ্রন্থে যথাক্রমে বাসন্তী, দূরে প্রিয়জন, অচেনা মুখ, কাব্য লেখার জওয়াব, অবহেলার প্রতিউত্তর, ভগ্ন হৃদয়, হিমালয় দুহিতার বক্র রেখা, সাড়াদান, আল্পনায় প্রতিচ্ছবি, গহীনে প্রস্থান, নীড়ে ফেরা, গহীনের স্পন্দন, আলোর দিশারী, দিশেহারা সারথি, শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি, মহাপ্রলয়ের নীরব দর্শক, কাঞ্চনজঙ্ঘা-মহানন্দার অভিসার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, পড়ন্ত বেলায় উপলব্দি, লেখার কৈফিয়ত, ভালোবাসায় গহীনের শব্দমালা, সাক্ষাতে বাহানা, চাঁদনী, দন্ত প্রীতি, প্রযুক্তির ছোঁয়া, প্রভাতে তোমায় দেখি, ভগ্নরশ্মি, প্রীতির গল্প, অনুরাগের চিহ্ন,

মেঘবালিকার লোচনে জলতরঙ্গ, সিঁড়িতে আরোহণ, স্বর-ব্যঞ্জনবৃত্তের কথন, ফেইসবুক, বৃক্ষ-মানব প্রেমের সমীকরণ, জীবনের রহস্যময় পরিধি, জীবনের মূহুর্ত, অপরূপ কেশী বঁধূয়া, গোলাপী পুষ্প, পুষ্পের নিয়তি, পলাশ ফুল, পাহাড়ি দুহিতার পুষ্প প্রীতি, হিমালয় দুহিতা, বিস্ময়কর কাঞ্চনজঙ্ঘা, অগ্রসরমান সারথি, বন্ধন, বন্ধুত্ব, স্মৃতির ক্যানভাস, স্পর্শ, বসন্তের ছোঁয়া, আলোকিত মানব, জন্মদিনে শুভেচ্ছা, মহাপ্রয়াণ, নিঃশ্বাসের লোকান্তর, অনিশ্চিত গন্তব্য, সম্পর্কের সমীকরণ, মাটির ঘর, মনের পাখি, স্মৃতির রশ্মি, স্বর -ব্যঞ্জনবর্ণে মানবজীবন, মুগ্ধ বিকেল, মানব পরিচয়, কাঁচের দেয়ালে প্রতিচ্ছবি, প্রযুক্তি ব্যবহারে সংকট, দুর্যোগের ঘনঘটা, স্মৃতি রোমন্থন, এবং জড় পদার্থ নামক কবিতা রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।