সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

উন্নত প্রযুক্তি ও শিক্ষার সমন্বয়ে বুটেক্সে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যাত্রা শুরু 

মোঃ আলী মোর্তজা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিভাগ হিসেবে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি যুক্ত হচ্ছে। বিভাগটির আসন সংখ্যা ৪০। নতুন এই বিভাগটির শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে।  টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার অত্যাধুনিক মেশিনারিজ। যা গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগটির মেশিনারিজের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রন […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ০১:১৯

মোঃ আলী মোর্তজা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিভাগ হিসেবে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি যুক্ত হচ্ছে। বিভাগটির আসন সংখ্যা ৪০। নতুন এই বিভাগটির শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। 

টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার অত্যাধুনিক মেশিনারিজ। যা গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগটির মেশিনারিজের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ যার দ্বারা পদার্থের মাইক্রো এবং ন্যানো স্কেলে গঠন বিশ্লেষণ করা যায়। রয়েছে এক্স-রে ডিফ্র্যাক্টোমিটার যা স্ফটিক কাঠামো এবং বস্তুর উপাদানগত গঠন নির্ণয় করে। বস্তুর উপাদানের পর্যবেক্ষণের জন্যও এটি খুবই কার্যকর। রয়েছে ডায়নামিক মেকানিক্যাল অ্যানালাইজার; এটি প্রধানত উপকরণের স্থিতিস্থাপকতা, সান্দ্রতা এবং তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করে। উপাদানের তাপীয় স্থিতিশীলতা এবং ভর হ্রাসের হার নির্ণয়ের জন্য রয়েছে থার্মোগ্র্যাভিমেট্রিক অ্যানালাইজার।

এছাড়াও রয়েছে অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, স্পেকট্রোফটোমিটার, ড্রপ শেইপ অ্যানালাইজার, আল্ট্রাসনিক বাথ, ইলেকট্রিক্যাল রেজিসটিভিটি টেস্টার, থ্রি-ডি প্রিন্টার এবং র‌্যাপিড প্রোটোটাইপিং মেশিন, ফাইবার এবং পলিমার টেস্টিং যন্ত্র, ডিফারেনশিয়াল স্ক্যানিং ক্যালোরিমিটার (ডি.এস.সি), হাইড্রোলিক প্রেস এবং হিট প্রেস ইত্যাদি অত্যাধুনিক মেশিনারিজ।

বিভাগটির ল্যাবে বিদ্যমান আধুনিক মেশিনারিজসমূহ ব্যবহার করা যাবে নানাবিধ গবেষণার কাজে। যুগোপযোগী ন্যানোটেকনোলজি, পলিমার সাইন্স, কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল এবং বায়োম্যাটেরিয়ালস নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ল্যাবে বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টিং এবং উন্নয়নের কাঠামোগত কাজ ল্যাবটিতে করা যাবে। 

বিভাগটি চালু করার কারণ প্রসঙ্গে বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ মামুন কবীর বলেন, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এমন একটি শাখা তৈরি করা যা পদার্থের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা করে। বিভাগটি চালু করার আরও কয়েকটি কারণ হলো উন্নত প্রযুক্তির চাহিদা মেটানো, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রসার ঘটানো, সর্বোপরি শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। 

তিনি আরও বলেন, এই বিভাগটির ল্যাবের মেশিনারিজগুলো গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তবে যন্ত্রগুলোর নিয়মিত ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ল্যাবের কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আরও উন্নত মেশিনারিজ যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। 

নতুন বিভাগটির উচ্চশিক্ষায় কেমন সুযোগ রয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুটেক্সে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) এবং ডক্টরেট (পি.এইচ.ডি) পর্যায়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। 

এছাড়াও এই বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, জাপান) উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ম্যাটেরিয়াল সাইন্সের বিশেষায়িত বিষয়গুলোতে দক্ষতা তৈরি করে বিদেশে কাজ করারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 

টেক্সটাইলের বর্তমান সংকট নিরসনে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি কেমন ভূমিকা রাখতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ম্যাটেরিয়ালস সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি সবে মাত্র শুরু হচ্ছে। এখান থেকে বৃহৎ পরিসরে ফলাফল পেতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে, আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। যেহেতু এটি গবেষণাধর্মী একটি বিষয়, তাই এখান থেকে ফলাফল আসতে সময়ের প্রয়োজন। উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করে গবেষণা করা, গবেষণার ফলাফল অনুধাবন এবং বাস্তবায়নের প্রত্যক্ষ ফলাফল পেতে হলে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে। যেটির প্রেক্ষিতে টেক্সটাইলের বর্তমানের সংকটগুলো নিরসনে বিভাগটি অতিসত্বর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি না।

গবেষণায় নতুন বিভাগটি কেমন ভূমিকা রাখবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফলপ্রসূ গবেষণার আশা করাটা যথার্থ নয়। এখানে কেমন ধরণের শিক্ষার্থী আসবে, তাদেরকে আমরা কীভাবে গবেষণার জন্য উপযুক্ত করে গড়তে পারি সেটি আসল বিষয়। গবেষণা করার জন্য মাস্টার্স এবং পি.এইচ.ডি লেভেল উপযুক্ত সময়। যোগ্য শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স, পি.এইচ.ডি লেভেলে যেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে রিসার্চে অংশ নিতে পারে।

নতুন বিভাগটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কীরূপ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে নতুন বিভাগের প্রতি প্রত্যাশা তো সবারই থাকে। তবে এই বিভাগটির যেই কোর্স কারিকুলাম সেটি আন্ডারগ্রাজুয়েট পড়তে আসা যেকোনো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত মনে হয়নি। এটি মাস্টার্স পর্যায়ের সেসব শিক্ষার্থী যারা আসলেই এটির সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল। তাছাড়া শুধু প্রত্যাশা রাখলেই তো হবে না, আমাদের উপযুক্ত শিক্ষক লাগবে, ছাত্র লাগবে, ছাত্রদেরকে সঠিকভাবে উপযুক্ত করে গড়তে হবে। প্রত্যাশা তো পরের ব্যাপার। এখন তো আমরা সবে শুরু করছি, সামনে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হবে, অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমরা যখন কয়েকটা ব্যাচ পার করবো, তখন ব্যাপারগুলো আরো দৃশ্যমান হবে। 

বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানের মতে নতুন এই বিভাগটি সেসব শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আগ্রহী এবং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও শিল্পক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহী। যারা শিল্প, গবেষণা, বা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চায়। এই বিভাগটি তাদের জন্য আদর্শ যারা সৃজনশীল, গবেষণামুখী এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদান রাখতে চায়।

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর নেতৃত্বে এলেন যাঁরা

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী […]

গকসু নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর নেতৃত্বে এলেন যাঁরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের মো. রায়হান খান। সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছেন সামিউল হাসান শোভন।

প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন এবারের নির্বাচনে। ১১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬৩ জন প্রার্থী, মোট ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৭৬১ জন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট গণনার দৃশ্য এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি দেখানো হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু প্রার্থী প্রশ্ন তোলেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গকসুর অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— কোষাধ্যক্ষ পদে খন্দকার আব্দুর রহিম। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ফয়সাল আহমেদ। সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল নোমান। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মো. মারুফ। সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে লীশা চাকমা।

দপ্তর সম্পাদক পদে শারমিন আক্তার। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. জান্নাতুল ফেরদৌস। সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে মো. মনোয়ার হোসেন অন্তর।

কৃষি অনুষদে বিজয়ী হয়েছেন মহিউল আলম দোলন, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদে জয় পেয়েছেন মো. হুমায়ুন কবির।

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন শাকিল আহমেদ, মো. সেলিম আহমেদ অলি, মো. মেহেদি হাসান, মিনতুজ আক্তার মিম। 

বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদে দুজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন মেহেরুন খিলজি মিতু, মো. ইমদাদুল হক মিলন। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদে দুজন বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন নাশরুন সেঁজুতি অরণি ও পার্থ সরকার।

প্রসঙ্গত, দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) চালু রয়েছে ছাত্র সংসদ। ২০১৩ সালে প্রথমবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল তৃতীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

তবে প্রশাসনের জটিলতায় নির্বাচিত সংসদ পুরো মেয়াদ কাজ করতে পারেনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর গকসুর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সংসদ নির্বাচন।

শিক্ষাঙ্গন

ভিপিতে জিতু-আদিবের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জিএসে এগিয়ে শিবিরের মাজহার

দীর্ঘ তেত্রিশ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে দু-দিন ধরে চলছে ভোট গণনা। ইতোমধ্যে ২১টি হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের গণনা চলছে। এরই মধ্যে ৫টি হলের তথ্যে জানা গেছে, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে স্বতন্ত্র ও শিবির সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে কিছুটা এগিয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন ও […]

ভিপিতে জিতু-আদিবের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জিএসে এগিয়ে শিবিরের মাজহার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১০

দীর্ঘ তেত্রিশ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে দু-দিন ধরে চলছে ভোট গণনা। ইতোমধ্যে ২১টি হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের গণনা চলছে। এরই মধ্যে ৫টি হলের তথ্যে জানা গেছে, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে স্বতন্ত্র ও শিবির সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে কিছুটা এগিয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন ও ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী। তবে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পুরুষ ও নারী পদে এগিয়ে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত ৫টি হলের তথ্যে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিবির সমর্থিত প্রার্থী সমান ১২৩টি করে ভোট পেয়েছেন। এই পদে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল পেয়েছেন ৫১ ভোট। এই হলে জিএস পদে শিবিরের মাজহার পেয়েছেন ২২৮ ভোট, বাগছাসের তৌহিদ সিয়াম পেয়েছেন ৪৯ ভোট। এছাড়াও নারী এজিএসে শিবির সমর্থিত আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা যেখানে ১৯৫ ভোট পেয়েছেন, বাগছাস সমর্থিত মালিহা নামলাহ পেয়েছেন ৮২ ভোট।

১০নং হলে (সাবেক শেখ মুজিব হল) ভিপি পদে জিতু ১৭৫টি, আদিব পেয়েছেন ১৩০টি ভোট।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল কেন্দ্রে ভিপি পদে জিতু পেয়েছেন ৮৯, আদিব, ৮১ ভোট।

ওপরের দুই হলে ভিপিতে জিতু এগিয়ে থাকলেও মীর মশাররফ হোসেন হলে তাকে পেছনে ফেলেছেন আদিব। সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এই প্রার্থী মীর মোশাররফ হোসেন হলে ১১৫ ভোট পেয়েছেন, পাঁচ ভোট কম তথা ১১০ ভোট পেয়েছেন জিতু। জিএস পদে এই হলে মাজহার ১৫৯ ভোট, সিয়াম পেয়েছেন ৪০ ভোট। এজিএসে ফেরদৌস ১৪৭টি ভোট পেয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আয়ান পেয়েছেন ৭০ ভোট

প্রীতিলতা হলে ভিপি পদে জিতু ৬৫ ভোট, আদিব পেয়েছেন ৪৭ ভোট। উজ্জ্বল ১৭ ভোট পেয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন। যেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার তথা ৮ হাজারের মতো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে ভোট গণনা স্বয়ংক্রিয় মেশিনে না হয়ে হাতে গোনা পদ্ধতিতে হওয়ায় ৩৩ ঘণ্টায়ও ফল প্রকাশ করতে পারে জাকসু নির্বাচন কমিশন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলমান রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

‘জাকসুতে ভোট কারচুপির প্রমাণ দিতে পারলেআমি চাকরি ছেড়ে চলে যাব,কোনো পেনশনের টাকাও গ্রহণ করব না

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট কারচুপি কিংবা জাল ভোটের মতো কোনো ঘটনা প্রমাণ করতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব বলে মনে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা হলগুলোতে কয়েক স্তরে ভোটারদের তথ্য […]

‘জাকসুতে ভোট কারচুপির প্রমাণ দিতে পারলেআমি চাকরি ছেড়ে চলে যাব,কোনো পেনশনের টাকাও গ্রহণ করব না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট কারচুপি কিংবা জাল ভোটের মতো কোনো ঘটনা প্রমাণ করতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব বলে মনে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা হলগুলোতে কয়েক স্তরে ভোটারদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভোটগ্রহণ করেছি। সেখানে একাধিক প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিল। পোলিং অফিসার, রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ এবং জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হয়েছে। সবার সামনেই ভোট হয়েছে। কেউ আমাকে ভোট কারচুপি কিংবা জালিয়াতির মতো কোনো অভিযোগ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষের দাবির কারণে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করতে হয়েছে, যা ফল বিলম্বের একমাত্র কারণ। যারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে জাকসুকে বিতর্কিত করতে চেয়েছে।

যদি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো সদস্যের অভিযোগ থাকে, তাহলে ভোটগ্রহণের দিন পদত্যাগ না করে আজ কেন তিনি পদত্যাগ করলেন? এ থেকেই বোঝা যায়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোট গণনার কাজে একাধিক শিক্ষক সম্পৃক্ত রয়েছেন। এখানেও সবকিছু সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই হচ্ছে। ভালোমন্দ তারা বিচার করবেন। তবে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, কারচুপি কিংবা জালভোটের মতো কোনো ঘটনা প্রমাণ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে চলে যাব। কোনো পেনশনের টাকাও গ্রহণ করব না।’