আশরাফুল ইসলাম (শেকৃবি প্রতিনিধি):
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সেকেন্ড গেট সংলগ্ন এলাকায় টিউশন থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন কৃষি অনুষদের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র রিকি। রবিবার রাতে র্যাব-২ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রিকি জানান, “টিউশন শেষে ফেরার পথে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি আমার পথ আটকায়। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও ১০-১২ জন এসে আমাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।”
রিকির মানিব্যাগে টিউশন বাবদ ২২,০০০ টাকা ছিল বলে জানা গেছে। ছিনতাইয়ের সময় ঘটে যাওয়া হট্টগোল দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করে শেরেবাংলা হলের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। পরে আরও চারজনকে আটক করা হয় যদের শেরেবাংলা থানার দায়িত্বরত পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷
এই ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য রিকিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ইতোপূর্বে অনেক শিক্ষার্থীর থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ ছিনতায়ের ঘটনারও অভিযোগ করেন অনেকে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ক্যাম্পাসের আশেপাশে নিরাপত্তা না থাকায় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। প্রশাসনের এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে, ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাত্রিকালীন টহল বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ আরফান আলী বলেন, আমরা ছিনতাইকারদের ধরেছি এবং যে ছেলেটাকে আক্রমণ করেছিলো তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছি এবং ছিনতাইকারী দুটোকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে টহল বাড়ানোর জন্য আমরা থানায় বলে দিয়েছি। আর ঔ ছিনতাইকারী ছেলে দুটো থেকে আরও ৮ জনের তথ্য নিয়েছি। পুলিশের কাছে সকল তথ্য দেয়া হয়েছে যেন তাদের গ্রেফতার করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও, বারবার এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।