আশরাফুল ইসলাম (শেকৃবি প্রতিনিধি):
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ভবন, হল ও গবেষণা কেন্দ্রের মুজিব পরিবারের ব্যাক্তিদের নাম পরিবর্তন করে নতুন পরিচয় দেওয়া হয়েছে। আগের রাজনৈতিক নামগুলো বাদ দিয়ে এবার নামকরণ করা হয়েছে কৃষি ও গবেষণায় অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন নামকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ভবনগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে শেখ কামাল ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে এম মাহবুবুজ্জামান একাডেমিক ভবন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম প্রশাসনিক ভবনের নতুন নামকরণ করা হয়েছে শুধু প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি কমপ্লেক্সের নাম শেখ রাসেল টিএসসি কমপ্লেক্স থেকে বদলে রাখা হয়েছে শেকৃবি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র। এছাড়া, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা গবেষণা কেন্দ্র।
ভবনের পাশাপাশি ছাত্রাবাস গুলোর নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। শেখ লুৎফর রহমান হলের নতুন নাম রাখা হয়েছে বিজয়’ ২৪ হল, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের নামকরণ করা হয়েছে বেগম রোকেয়া হল, শেখ সায়েরা খাতুন হলের নাম বদলে রাখা হয়েছে অপরাজিতা ২৪ হল এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে বেগম সৈয়দুন্নেসা হল করা হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের নাম রাখা হয়েছে শহীদ আবু সাঈদ গেট।
শিক্ষার্থীরা ভবন ও হলের নতুন নামকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রবিউল বলেন, “আগের প্রশাসন ভবনের নামকরণে রাজনৈতিক নীতি অনুসরণ করেছিল। তারা সরকারের প্রিয়পাত্র হতে মুজিব পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করেছিল। বর্তমান প্রশাসন কৃষি ও সমাজের মহৎ ব্যক্তিদের নামকরণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, “বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর নাম রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে রাখা হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে দলীয় এসব নাম বদলে সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নামে নতুন নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নামকরণের ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত নামগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।