সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাড়ান’ প্রতিপাদ্যে র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন।
মঙ্গলবার (৭ই এপ্রিল) সকালে গণস্বাস্থ্য ও গবি’র যৌথ আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।
এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে র্যালি বেরিয়ে মূল ফটক হয়ে গণস্বাস্থ্যের পিএইচএ ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান সহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবি ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরে পিএইচএ ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাড়ান’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভায় এন্ট্রি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এর সচেতনতা, ব্যবহারের দিক ও কার্যকারীতা, প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল হক শিকদার আলোচনায় বলেন, ‘ওয়ান হেলথ এমন একটি সমন্বিত ধারণা, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখা হয় না; বরং পশুপাখি, পরিবেশ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার সাথে একসূত্রে বিবেচনা করা হয়। এই ধারণার ভেতরে ফিজিওথেরাপি, ফার্মাসিউটিক্যালস, হাসপাতাল সেবা সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ, চিকিৎসা শুধু একজন ডাক্তার বা একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয় এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন খাত একসাথে কাজ করে।’
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য “Together for Health, Stand with Science”। এমন একটি আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের, বিশেষ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-এর মতো প্রতিষ্ঠানে, যা স্বাধীনতার সময় থেকে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়, পরে ১৯৭২ সালে সরকারি জমি বরাদ্দের মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হয়। সম্প্রতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী-কে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে যা তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।
তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে ঘরে ঘরে, শুধু বড় শহরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের সম্পদ। তাঁর আদর্শদেশের মধ্যেই চিকিৎসা গ্রহণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ওয়ান হেলথ এর অবস্থা সামনে বিপদজনক হতে পারে আমাদের একত্রিতভাবে সেই বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশসহ বিশ্বের মানুষের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ঝুকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক সচেষ্ট।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ওয়ান হেলথ আজকের আলোচিত ধারণা হলেও বহু আগেই জাফরুল্লাহ চৌধুরী মানুষের সাথে পশুপাখি ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন।
সুস্থ সমাজ গড়তে এই তিনটির ভারসাম্য অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, সামান্য উপসর্গ বললেই ফার্মেসি থেকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে যা আমাদের জন্য বড় ধরণের ক্ষতি। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা বন্ধ ও কঠোর মনিটরিং জরুরি।’
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আধ্যাপক ডা. মেসবাহ্ উদ্দিন আহমেদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।