সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কর্মীসভা হলেও, এক বছর ধরে দেখা নেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ছাত্রদল কমিটির

আবু তাহের, জাককানইবি ৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গতবছর ২১ মে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হলেও, এক বছর ধরে দেখা নেই নতুন কমিটির। ফলে হতাশা বাড়ছে নেতাকর্মীদের মাঝে। ২০২১ সালের ৬ জুন ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক এবং আল আমিনকে সদস্য সচিব করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় […]

কর্মীসভা হলেও, এক বছর ধরে দেখা নেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ছাত্রদল কমিটির

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২২

আবু তাহের, জাককানইবি

৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গতবছর ২১ মে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হলেও, এক বছর ধরে দেখা নেই নতুন কমিটির। ফলে হতাশা বাড়ছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

২০২১ সালের ৬ জুন ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক এবং আল আমিনকে সদস্য সচিব করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস হলেও পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটটির সাংগঠনিক কার্যক্রম।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ মে কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকির আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর সানি এবং মোঃ রিসালাত ইসলাম সজীবকে দায়িত্ব প্রদান করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। সম্মেলনে অতি দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার আশ্বাসও দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে ২৭ সদস্যের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ২০ জন সদস্যই মাঠে সক্রিয় নন, এমনকি অধিকাংশ নেতাকর্মীর ছাত্রত্বও শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তবে ৫ আগস্টের পর নিজেদের নির্যাতিত-বঞ্চিত দাবি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছেন নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী একাধিক ছাত্রদল নেতা। এসবকিছুর পরেও নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝেও হতাশা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিমেল আহম্মেদ বলেন, ২০২৫ সালের ২১ মে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মী সম্মেলন নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করলেও দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি; বরং পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক তৎপরতা এবং ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনেকের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা ছাত্রদলের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে ক্যাম্পাসে একটি স্পষ্ট নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হওয়ার পথে, যার সুযোগ নিচ্ছে সক্রিয় গুপ্ত সংগঠনগুলো।

পরিবর্তনশীল সময়ে সাংগঠনিক উপস্থিতি দুর্বল থাকায় গুপ্ত সংগঠনগুলো কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ মুহূর্তে সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো অত্যাবশ্যক।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ফরাজি বলেন, কর্মীসভা হয়েছে প্রায় ১ বছর। কর্মীসভার পরে আসলে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পরে। এ কারণে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এখন আর সুসংগঠিত নেই।

আমি চাই খুব দ্রুতই যেনো শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি করা হয় এবং যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে হামলা-মামলার শিকার হয়েও মাঠে থেকেছে এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে লড়াই করে গেছে, তাদেরকে যেনো মূল্যায়ন করা হয়। একটি সঠিক নেতৃত্ব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমরা নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে,তারা সময়মতো হয়তো কমিটি গঠন করবে। দীর্ঘদিন যারা মাঠ পর্যায়ে থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করেছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ তাদের মূল্যায়ন করবে বলে আশা রাখি।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সংগঠন গতি হারাচ্ছে এবং যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মেধাবী ও ত্যাগী কর্মীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপ তৈরি হচ্ছে, যা সংগঠনের ঐক্য নষ্ট করছে।

বিগত সময় ধরে যারা ছাত্র রাজনীতি করে আসছে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠন করা হোক। আমি মনে করি যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।

শাখা ছাত্রদলের কর্মী শাহাদাত হোসেন চঞ্চল বলেন, পরিবর্তনশীল সময়ের চাহিদা অনুযায়ী যে ধরনের ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন সেটি সম্ভব হচ্ছে না অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সংকট থাকায়। শিক্ষার্থীরাও এই সংকট অনুভব করছে।

শিক্ষার্থী বান্ধব যুগোপযোগী নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গতিশীল ছাত্ররাজনীতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের প্রতি সকল স্তরের মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সকলের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ইউনিটটির টিম লিডার এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাকির আহমেদের পছন্দের প্রার্থীকে সুযোগ দিতেই বিলম্ব করা হচ্ছে কমিটি। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার পছন্দের কোনো ক্যান্ডিডেট নেই। আমার কারণে কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে, বিষয়টা এমন না।

এখানে বেশকিছু জটিলতা রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও নেতাকর্মীরাও চাচ্ছিলেন নির্বাচনের পর যেন কমিটি হয়। মূলত রানিং স্টুডেন্টদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রেও পরিপক্বতার বিষয় রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু যাচাই-বাছাই চলছে, আমরাও চেষ্টা করছি। আশা করি এ মাসের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, ছাত্রদলের কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রশাসনের সাথেও একাধিকবার আমরা আলোচনায় বসেছি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যদি নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজনবোধ করে, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং সংগঠনও গতিশীল হবে বলে আশা রাখি।

কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসির বলেন, প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের বিষয়েও আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করার।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।