ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর হঠাৎ এ প্রবেশকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধদের হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল চারটার দিকে লোয়ার যশোর রোডসংলগ্ন কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী প্রবেশ করেন। তারা নিচতলার প্রধান ফটকের তালা খুলে দোতলায় ওঠেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিক্ষুব্ধ একটি দল কার্যালয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, শহীদ হাদিস পার্কসংলগ্ন শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ওই কার্যালয়ে প্রথমে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তিনি নতুন সরকারের কাছে দলটির রাজনীতি করার অধিকার পুনর্বহালের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবীর হোসেন বলেন, বিকেলে কয়েকজন হঠাৎ করে অফিস খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর ‘রেড জুলাই’ নামের একটি ছাত্রগোষ্ঠীর ৭ থেকে ৮ জন সদস্য কার্যালয়ে আগুন দেয় বলে জানা গেছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। রোববার বিকেলে তালা খুলে নেতাকর্মীদের প্রবেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর সেখানে পুনরায় কার্যক্রমের চেষ্টা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গড়ায়।