ছাইদুল ইসলাম ,ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুর জবাই করে মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এন্তাজ সাঁজী (৫০) নামের এক মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে। তিনি পেশায় একজন কসাই।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মুকুন্দপুর গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে এক রকম চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
এন্তাজ সাঁজী উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত ওলিশার ছেলে। তিনি ২৫ বছর ধরে মঙ্গলবাড়ী বাজারে গরু-খাসি জবাই করে মাংস বিক্রি করতেন। শুধু তাই নয় আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খাসির কথা বলে পলিথিনে করে মাংস বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বুলুন নাহার বলেন, গতকাল শনিবার রাত বারোটার দিকে প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হই। এরপর পাশের আলু খেতে এন্তাজসহ কয়েকজনের কন্ঠ শুনতে পাই। প্রশ্ন করা হলে বলেন খাসি জবাই করছি। সকালে জানতে পারি খাসি নয় কুকুর জবাই করা হয়েছে।
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে মাজেদা বেগম বলেন, সকালে খেত থেকে আলু তুলতে গিয়ে জবাই করা একটি কুকুরের মাথা এবং পাশেই ভুরিসহ চামড়া পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দিই।
তিনি এও বলেন, প্রতিবেশী হওয়ায় তাঁর কাছ থেকে অনেক মাংস কিনে খেয়েছি। গরু খাসির নাম করে কতবার যে কুকুরের মাংস আমাদের খেতে হয়েছে আল্লাই জানেন।
মুকুন্দপুর হঠাৎ পাড়া এলাকার বাসিন্দা লতিকা মূর্মু বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক আদর যত্ন করে কুকুরটিকে বড় করেছি। নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি আদর করেছি, ভালোবেসেছি। শনিবার বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। আজ সকলে জানতে পারি হত্যা করা হয়েছে। এমন নৃশংস হত্যার বিচার চেয়ে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জবাই করা কুকুরের মাংস থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় না হবে।