মোঃ মিরাজ হোসাইন,দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর, মদনপুর, চরখলিফা, সৈয়দপুর, চরপাতা, দক্ষিণ জয়নগর, উত্তর জয়নগর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ দেখা গেছে। সোনালী রোদ আর হিমেল হাওয়ায় ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ধানের শীষ।
দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ, সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। আর মাত্র কিছুদিন পরেই কৃষকের উঠানে আছড়ে পড়বে সোনালী ধান। ভরে উঠবে ধানের গোলা। মুখে ফুঁটবে সোনালী হাসি।
উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন জানান, তিনি এবার ৩০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। পাকাধান ঘরে উঠবে আর কয়েক দিনের মধ্যে। শুরু হবে নবান্নের উৎসব। পাকা ধান থেকে চাল তৈরি করে পিঠাপুলি পায়েস তৈরি করার জন্যও তারা প্রস্তুত। তিনি এ বছর এসব ধান বিক্রি করে লাভবান বলে জানান। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলন ভালো পাবে।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ জনান, কিছু জমির ধান ফুলে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে, আবার কিছু জমির ধান কেবল ফুলছে। তবে আর কিছুদিন পরেই মাঠের অধিকাংশ ধান পাকতে শুরু করবে।
ওই এলাকার কৃষক আজিজল বাঘা বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার ধানের ফলন ভালো হবে আশা করি । তবে আমরা কৃষকেরা সারা বছরের সব কষ্ট ভুলে যাই, এই ধানের শীষ দেখে।
সরোজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সব এলাকার মাঠ গুলোতে একই চিত্র। কৃষকেরা আমন ধানের শীষ পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। পোকা-মাকড় থেকে ধানকে রক্ষা করায় তাদের মূল লক্ষ্য। আর কয়দিন পরেই কৃষক ধান কাটবে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বর্ষা ঋতুতে এবছর বর্ষা বেশী হওয়ায় ফসলের মাঠে সবুজ আর সোনালী ধানের হাসি যেন কৃষকদের মনে আনন্দ বয়ে আনছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে মাঠে মাঠে মৃদু মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা পাকা ধানের শীষ। স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে কৃষকেরা।
দৌলতখান উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৩৩৮১ হেক্টর আমন আবাদ এর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো আর অর্জন হয়েছে ১২৯৬৭ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়েরা ছিদ্দিকা জান্নান, কৃষি অফিস থেকে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার, কীটনাশক সহায়তা ও সুবিধা এবং আমি নিজে মাঠকর্মীদের সাথে মাঠে গিয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষকদের। এখনো পর্যন্ত কৃষকদের ধান ভালো পর্যায়ে আছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদেরকে নিয়মিত সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাজেই কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।