পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো সমস্যা নেই; সমস্যা হচ্ছে মোদি সরকারের সঙ্গে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা লুটপাট, অন্যায়, অত্যাচার ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল, ৫ আগস্টের পর তারা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তাদের জন্য অফিসও করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশে আর কখনো নির্বাচন করতে পারবে না। তবে আওয়ামী লীগের সবাই খারাপ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।
স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস করবেন। যারা হত্যা, লুটপাট, অন্যায় ও অবিচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ দেশবাসী মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে এবং একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না মিয়ার সভাপতিত্বে এবং নির্বাচনী সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট তৌফিক আলী খান কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি অনেক এগিয়ে থাকলেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতর্ক করে দিয়েছেন—আসন্ন নির্বাচন সহজ হবে না। নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একটি দল জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৪ কোটি মাস্ক ও ২ কোটি বোরকা কিনেছে। কেউ যেন মাস্ক পরে নারী ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দিতে না পারে, সে বিষয়ে নারীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ফজরের নামাজের পর সবাই ভাগ ভাগ করে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।
জনসভায় কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জনসভা শেষে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল নির্বাচনী মিছিল পটুয়াখালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।