ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করতে পারবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলটি আত্মবিশ্বাসী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম শোনা গেলেও তাদের সঙ্গে সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?” তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।”
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে দলের মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, সরকার গঠনের জন্য বিএনপির যথেষ্ট আসন থাকবে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও বিএনপির জয় সম্ভাবনার কথাই উঠে এসেছে, যদিও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রয়টার্স জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রয়েছে এবং হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ভারতের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন অংশীদার, যারা প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি বলেন, “আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ জনগণের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়া হবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।”