ধামইরহাট প্রতিনিধি (নওগাঁ)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। ৬৭৯ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এলাকায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৯টি,পৌরসভা সংখ্যা ০২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭২৪৩৬ জন নিয়ে গঠিত নওগাঁ -২ আসন। এবার মোট ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার বা এক বারও ভোট প্রদান করেন নি প্রায় ৩৭% ভোটার।
নওগাঁ-২ আসনে ভোটার ও সমর্থকদের নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে পথঘাট ও পাড়া-মহল্লা। হাটবাজার, কৃষকদের মাঠ থেকে চায়ের টেবিলে একটাই আলোচনা কে জিতবে, কে হারবে কে যাবে আগামী সংসদে । চলছে ভোটের অঙ্ক কষা ও রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এ আসন থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে জামায়াত ও বিএনপি পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কিন্তু এবি পার্টির কোনো কর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনি মাঠে গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি, মাঝে মাঝে অটো ভ্যানে মাইকে ভোটের মাইকিং শোনা যায়।
চায়ের স্টল ও বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর এই আসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর এর রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরোটাই বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠের বাইরে থাকলেও তাদের ভোট নিয়ে টানাটানিতে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত। সকলে মনে করছেন আওয়ামীলীগের ভোটই আগামী সংসদ নির্বাচনে মুল ফ্যাক্টর হয়ে দাড়াবে, এ কারণে দীর্ঘদিন পর ঘাঁটি পুনর্দখলে নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে গণসংযোগে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভক্তির কারণে পুরোনো ঘাঁটি দখল করা খুব একটা সহজ কাজ হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর জামায়াত।
সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত বিএনপির একাংশ অভিযোগ করে বলেন, ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, ওই কমিটিতে বিগত দিনের অনেক ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের বাদ দিয়ে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের জায়গা করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দলের দুর্দিনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় মূলত এখান থেকেই স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা শাখা বিএনপির এক নেতা বলেন, পাঁচ আগস্টের পর এই আসনে যেভাবে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করা হয়েছে তা দলের ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি নষ্ট করেছে। এ কারণে দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা নতুন নেতৃত্ব হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাজিবুল্লাহ চৌধুরী ও ধামইরহাট উপজেলা শাখা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে এমপি হিসেবে প্রত্যাশা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাদের বাদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহাকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিএনপির একাংশের মধ্যে ভাঙন ও হতাশা তীব্র হয়ে ওঠে। নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের এই ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চাইতে সুসংগঠিত এবং দলটির ভেতরে ও বাইরে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকার পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।
ভোট কাকে দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে এক ভোটার জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের রূপ দেখেছি এবং স্বৈরাচারের খেতাব নিয়ে আওয়ামী লীগ হয়েছে দেশ ছাড়া। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির দখলবাজি আর চাঁদাবাজি আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এ কারণে কাকে ভোট দেব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।
তবে অন্য ভোটাররা বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিই তাদের আস্থা ও ভরসার কথা জানিয়েছেন, তারা আরো বলেন আগামী তে মানুষ স্বতঃস্পত ভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থিকেই ভোট দিবেন।
কথা হয় ধামইরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মো,শহিদুর ও ধামইরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো আনারুল ইসলামের সঙ্গেে তারা বলেন আমরা ধামইরহাটে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের সমর্থনে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে নির্বাচন প্রচারণা চালাচ্ছি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি, মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
অপরদিকে নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতা পক্ষের বৃহৎ একটি গণতান্ত্রিক দল। এ কারণে দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে বিগত দিনের মতো এবারও ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, মান-অভিমান নিয়ে যারা দূরে সরে গিয়েছিল আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমার সঙ্গে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছেন। যেমন
ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপলের নেতৃত্বে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আরো অনেকে বিভেদ ভুলে তারেক রহমান কে নওগাঁ -২ উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, ধামইরহাট ও পত্নীতলা দুই উপজেলা থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মহিলা কলেজগুলোকে জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে মহিলাদের শিক্ষিত করাসহ দুই উপজেলাকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেগুলো এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে তার ব্যবস্থা করাসহ সাধারণ মানুষদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য যে দুটি হাসপাতাল রয়েছে তা আধুনিকায়ন করা হবে।
এতকিছু সমীকরণের পর ও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কে হাসবে শেষ হাসি,,,