মেহেদী হাসান রাতুল ( সিলেট )
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
‘সিলেট উন্নয়ন ও রূপান্তর ঘোষণাপত্র’ শীর্ষক এই ইশতেহারে কর্মসংস্থান, কৃষি আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন, নারীবান্ধব নগর গঠন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে দেশের ভেতর ও প্রবাসের বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ‘আকাঙ্ক্ষার সিলেট’ নামে একটি উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পর্যটন ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিরূপণ করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রদান করবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইশতেহারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে একটি আইটি ও ইনোভেশন হাব স্থাপন, তরুণদের জন্য আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সরকারি উদ্যোগে কো-ওয়ার্কিং স্পেস এবং একটি ওয়ান স্টপ ক্যারিয়ার অ্যান্ড জব সেন্টার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন এবং ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
কৃষি খাতে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নত করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সিলেটকে শাকসবজি রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ জন্য কোল্ড স্টোরেজ, এগ্রো-প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন এবং সার্টিফিকেশন ও প্যাকেজিং জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়নে নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, লোকজ ও মরমি সংগীতের প্রসার এবং নারীবান্ধব স্ট্রিটফুড জোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চা শিল্পে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, আইসিইউ সেবা আরও সাশ্রয়ী করা এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার, খেলার মাঠ ও ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণ এবং যানজট নিরসনে আধুনিক পার্কিং ও গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ আধুনিকায়ন এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন,
“সিলেটের উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়—মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”