মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের ডুলিহাটা গ্রামে ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিক পরিবারকে হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডুলিহাটা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বেপারীর ছেলে রিদয় বেপারী ঢুলিহাটা মৌজার ৩৩৬ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৪৮৭ দাগে সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটি দিন ইসলাম শেখ, রুহুল আমিন শেখ ও হিজবুল শেখের কাছ থেকে বৈধভাবে কেনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা কুদ্দুস বেপারী জানান, সম্প্রতি প্রতিবেশী ঝর্না বেগম ও তার লোকজন ওই জমিতে জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় ঝর্না বেগম, তার দেবর পারভেজসহ কয়েকজন তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে শালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষকে কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি তার জমির দলিলপত্র চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিলেও প্রতিপক্ষ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শালিসে বসতে রাজি হয়নি। বরং উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির পূর্বের মালিক দিন ইসলাম শেখ ও রুহুল আমিন শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাদের মালিকানাধীন ছিল এবং এলাকার সবাই বিষয়টি জানে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঝর্না বেগম জমির মালিকানা দাবি করছেন, তা তাদের বোধগম্য নয়। তারা বলেন, প্রয়োজনে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে তারা প্রস্তুত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঝর্না বেগম দাবি করেন, জমিটি তাদের দখলে রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। প্রশাসন চাইলে তিনি তা দেখাতে পারবেন বলেও জানান।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, তাদের জানা মতে জমিটি আগে দিন ইসলাম শেখসহ তিন ভাইয়ের ছিল এবং কিছুদিন আগে তারা সেটি কুদ্দুস বেপারীর ছেলের কাছে বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে আড়িয়ল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। ব্যস্ততার কারণে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি এবং সংশ্লিষ্ট নথির জন্য আদালত বা অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুল হক ডাবলু জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।