নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজু এলাকার তুলসিগঙ্গা নদী থেকে আব্দুল কুদ্দুস (৪৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ।
১ ফেব্রুয়ারী রোববার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল কুদ্দুস উপজেলার পাটপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল কুদ্দুস।
সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রীকে ফোনে তিনি কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবেন বলে জানান।
এরপর আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যে ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আনতে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কুদ্দুস কোথাও আছেন, পরে বাড়ি ফিরবেন।
রোববার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোনাবাজু মুসার ঘাট এলাকার তুলসি নদীতে খোঁজ নিতে বলেন। পরে স্বজনেরা নদীর কচুরিপানা সরিয়ে ভাসমান অবস্থায় আব্দুল কুদ্দুসের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, তাঁর মাথার সামনের অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তুলসি নদীর পাড়ের একটি বসতিতে মুসা নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল কুদ্দুস মাঝে মাঝে ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।