মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি সকালে শ্রীনগর থানাধীন হাঁসাড়া এলাকার ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনের হাঁসাড়া ব্রিজ-২ এর নিচে পানির মধ্যে এক যুবকের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। মৃতদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নাগরপাড়া গ্রামের মো. জাকির হোসেন লাশটি তার ভাই সোহেল রানা (২৮) বলে সনাক্ত করেন। নিহত সোহেল রানা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বনগ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীনগর থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. ফিরোজ কবির, শ্রীনগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞার তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে মো. শিমুল (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (৩৩)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে মো. ফারুক (৩৬)-কে আটক করা হয়। ফারুকের হেফাজত থেকে নিহতের ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা সবাই অটোরিকশা চালক এবং নিহত সোহেল রানার পূর্বপরিচিত। পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ২১ জানুয়ারি রাতে যাত্রী সেজে সোহেল রানার অটোরিকশায় ওঠে তারা। পরে হাঁসাড়া আলমপুর আন্ডারপাস এলাকায় তাকে নামিয়ে গলা টিপে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর অটোরিকশাটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।