মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে প্রবাসী স্বজনের পাঠানো ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত টাকার এক লাখ টাকা ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মুন্সিগঞ্জ শহরের রিকাবী বাজারস্থ সিটি ব্যাংক শাখা থেকে প্রবাসী কাইয়ুম খান (৩৮)-এর পাঠানো ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তার ভায়রা শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮)। পরে তিনি তার স্ত্রী ও প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম (৪৫)-কে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত মিশুকে করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সেরাজাবাদের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে আলদী-সেরাজাবাদ পাকা সড়কের ঋষিবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে পৌঁছালে মুখ বাঁধা দুইজন ব্যক্তি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে এসে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়—এমন অভিযোগে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নথিভুক্ত হয় (মামলা নং-১২(০১)২০২৬)।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি পরিকল্পিত নাটক বলে নিশ্চিত হয়। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির ও সিরাজদিখান সার্কেল এএসপির তত্ত্বাবধানে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮),
খোকন হালদার (৩২) এবং
ইকবাল হোসেন (৩০)।
তাদের সবার বাড়ি টঙ্গীবাড়ী উপজেলায়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী শাহজালাল হালদারই ছিনতাইয়ের পুরো পরিকল্পনার মূল হোতা। তিনি তার দুই বন্ধুকে নিয়ে আগেই পরিকল্পনা করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রতিরোধ না করে টাকার ব্যাগটি ছেড়ে দেন। পরে তারা নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ করে নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই বাকি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।