নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের পূর্বাভাস পেয়ে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে রায়পুরা থানার মির্জারচর ও চাঁনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মির্জারচর গ্রামের কবরস্থানের একপাশে একটি বস্তার ভেতরে প্যাঁচানো অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক ও দুটি শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে চাঁনপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোহিনীপুর বাজারসংলগ্ন একটি স্থানে বস্তার ভেতর থেকে আরও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। ফলে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আবু বকর সিদ্দীক, পিএসসি। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ১২ ল্যান্সার্স ইউনিটের একটি দল অংশ নেয়। এছাড়া রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর-এর নেতৃত্বে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি দল এবং র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্রের মজুত রোধে এ ধরনের যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রায়পুরা উপজেলায় ধারাবাহিক যৌথ অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।