আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে প্রচার–প্রচারণায় ব্যস্ত বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মোট ১২৬ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী। বিপুল সংখ্যক এই প্রার্থীর ভিড়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে মাঠে নেমেছেন মাত্র তিনজন নারী প্রার্থী।
এই তিন নারীর মধ্যে দুজন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা হলেন—ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বাসদের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমাজকর্মী তাসলিমা বেগম।
ঝালকাঠি-২: অভিজ্ঞ রাজনীতিক ইলেন ভুট্টো
ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। প্রায় ৬০ বছর বয়সী এই নেত্রী ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার স্বামী প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোও ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য।
এইচএসসি পাস ইলেন ভুট্টোর হলফনামা অনুযায়ী অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি প্রাইভেটকার ও ৩০ তোলা স্বর্ণালংকার রয়েছে তার। কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রাজধানীর উত্তরায় রয়েছে একটি বাড়িও।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং ব্যয় ১৫ লাখ টাকা। নিজস্ব অর্থায়নেই নির্বাচনী ব্যয় বহন করছেন তিনি।
বরিশাল সদর আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। ৩৫ বছর বয়সী এই এমবিবিএস চিকিৎসকের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্বজনদের সহায়তায়।
বড় ব্যানার, গাড়ি বা শোভাযাত্রা ছাড়াই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হেঁটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলাই তার প্রচারণার মূল কৌশল। শ্রমজীবী মানুষের ওপর আস্থা আর তাদের ‘মাটির ব্যাংকে’ জমানো সামান্য অর্থই তার নির্বাচনী শক্তি।
হলফনামা অনুযায়ী ডা. মনীষার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ ১২ লাখ ৬৪ হাজার, ব্যাংকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার এবং স্থায়ী আমানত ৫ লাখ টাকা। রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ৬৯ হাজার টাকা। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চিকিৎসা পেশা ও ব্যাংকের মুনাফা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য পরিবার ও স্বজনদের ওপর নির্ভর করছেন তিনি। বোন তন্দ্রা চক্রবর্ত্তী দেবেন ৩ লাখ টাকা, কাকাতো ভাই ২ লাখ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা বাবা তপন চক্রবর্ত্তী দেবেন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের জমানো অর্থও রয়েছে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে।
ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজকর্মী তাসলিমা বেগম। তিনি আগে দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাসলিমা বেগম। তিনি দৌলতখান থানা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের পর তিনি দলের পদ হারিয়েছেন বলে জানান।
অষ্টম শ্রেণি পাস এই নারী সমাজকর্মীর পেশা বর্তমানে দর্জির কাজ। দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানো তাসলিমা বেগম তিন ছেলে ও তিন মেয়েসহ ছয় সন্তানের জননী। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা দিয়েই তিনি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করছেন।