পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই এক স্কুলশিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার স্কুলশিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান অভিযোগ করে বলেন, কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা সভায় যোগ দেওয়ার জন্য তারই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে চাপ দেয়। তবে তিনি সভায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির সমাবেশস্থলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বাউফল থানা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য জামায়াত-শিবিরের লোকজন সেখানে এসেছিল। পরে প্রশাসন এসে তাদেরকে সরিয়ে দেয়।’
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ছাত্রদল কর্মী অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. লিমন হোসেন বলেন, ‘শিবির সমর্থক স্কুলশিক্ষার্থী রেদোয়ানের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে যাই।
পরে শিবিরের জেলা সভাপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষক ও তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেন। শিবির সমর্থক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি আড়াল করতেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, ‘আমরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছি এবং তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।’