রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। নির্মাণকাজে ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক জানান, কাজ পেতে ঠিকাদারকে গণপূর্ত বিভাগের লোকজনকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ঘুষ দিতে হয়। এতে ব্যয় সামলাতে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করে।
প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর ‘আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স’ কাজটি পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
২০২১ সালের অক্টোবরে মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শুরু হলেও জমিজটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। টানা চার বছর কাজ বন্ধ থাকার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০২৫ সালের জুনে পটুয়াখালীর ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া কাজটি পান এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট, রড, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আপত্তিতে এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ থাকলেও পরে পুনরায় কাজ শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের তদারকির মধ্যেও গোপনে অনিয়ম চলার অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে মসজিদের সলিংয়ের কাজ চলছে। ঢালাইয়ের জন্যও নিম্নমানের বালু ও পাথর মজুত রাখা হয়েছে।
আমতলী পৌরসভার বাসিন্দা মো. রিপন মুন্সি, জালাল খান ও সফিকুল ইসলাম সোহাগ তালুকদার বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকায় মডেল মসজিদ চালু হলেও আমতলীতে আট বছরেও নির্মাণ শেষ হয়নি। এখন যে কাজ চলছে, তাতেও অনিয়ম হচ্ছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম মিরাজ বলেন, সলিংয়ের কাজে কিছু নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল। সেগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। নির্মাণকাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।