যশোরের চৌগাছায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক দোকানিকে কুপিয়ে হত্যার পর হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার জানুয়ারি বিশ তারিখ বিকেলে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম বয়স বিয়াল্লিশ বছর এবং একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আব্দুল আলীম পলাশ হোসেন বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পলাশ কিছুদিন আগে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের কাছে একটি জমি বিক্রি করেন। পরে সেই জমিই পলাশ তার মা ও বোনের নামে হেবা করেন। বিষয়টি নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও পলাশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রফিকুল ইসলাম হেবা বাতিল করতে পলাশের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান।
এই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজসংলগ্ন আপেলের স মিলের সামনে রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালান পলাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর দুইশ পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল পৌঁছালে রফিকুল ইসলাম মারা যান। পরে তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পলাশকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করীম বলেন, পলাশ সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি রফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।