শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রেস ব্রিফিং

মুশফিক হাওলাদার ভোলা: ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ আছর আল বারাকা হজ্ব অফিসে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিন বলেন,  প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত […]

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রেস ব্রিফিং

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:৫৪

মুশফিক হাওলাদার ভোলা:

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ আছর আল বারাকা হজ্ব অফিসে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিন বলেন, 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফেলে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ইসলামপন্থীদের শক্তি একীভূত করার লক্ষ্যে ১ বক্স পলিসি বাস্তবায়নে সমমনা ও দেশের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে মাঠে নামেন। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে,বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামী শক্তির ঐক্যই ছিল জাতির একমাত্র আশার জায়গা। সেই উপলব্ধি থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সাহেব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সবাইকে নিয়ে পথচলা শুরু করেন। 

যাতে বিভক্ত ইসলামি ভোট একত্রিত হয়,

ইসলামপন্থীরা শক্ত অবস্থান নিতে পারে, ইসলামী রাজনীতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সবার সমন্বয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ সেই ১ বক্স নীতি বাস্তবায়নের বদলে ভেস্তে যাওয়ার পথে।

কেন ১ বক্স নীতি বাধাগ্রস্ত হলো? এর প্রধান কারণ হলো ১ বক্স পলিসিতে সবশেষে যুক্ত হওয়া একসময় ইসলামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিতে বিশ্বাসী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের অতি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ও একচ্ছত্র আধিপত্যের মনোভাবই আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি।

দলটি যুগপৎ আন্দোলন সহ বিভিন্ন কাজ একসাথে ও আগ্রহের সাথে করলেও আসন সমঝোতার আলাপ আসলেই ভিন্ন চেহারা প্রদর্শন করতে শুরু করে। 

সমঝোতার নামে একতরফা শর্ত চাপানো, আসন বণ্টনে নিজেদের দলীয় প্রাপ্তিকেই অধিক প্রাধান্য দেয়া,

ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলোকে সমমর্যাদার শরিক না ভেবে অধস্তন হিসেবে দেখার চেষ্টা করা যা ঐক্যের পরিপন্থী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে বিগত দিনে যা যা ঘটেছে – 

 বৈঠকের সময় নিয়ে টালবাহানা, সিদ্ধান্তের টেবিলে উপেক্ষা, নামমাত্র কয়েকটি আসন—তাও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, মিডিয়ায় পরিকল্পিত অপপ্রচার, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সাথে গোপন আঁতাত, বিএনপির সাথে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা, এমনকি ভারতের সাথে গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেল, এনসিপির মাধ্যমে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের গুঞ্জন সহ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত বিষয় সামনে আসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং আজকের এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।  

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গত কয়েক দিনে একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তন্মধ্যে কয়েকটি  

১) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫০, ২০০ আসন চায় টাইপের কথা বারবার সামনে আনা হয়েছে। অথচ এমন কিছুই ঘটেনি। হ্যাঁ, দেশব্যাপী জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য ১৪৩ টি আসনকে A গ্রেডের উল্লেখ করে আলোচনার টেবিলে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এখানে আলোচনা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এমন গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মিডিয়ায় চলে আসলো! 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এটাকে ওই টেবিলে থাকা লোকদের চক্রান্ত হিসেবেই দেখছে। পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এর স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিল হিসেবে কাজ করছে। 

যেমন-

২) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ ও খাটো করে দেখানোর মানসে বারবার “কৃত্রিম জরিপ” ছড়ানো হয়। যেখানে ইসলামী আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃতভাবে নগণ্য দেখানো হয়েছে। অথচ জরিপের কোনো পদ্ধতি, নমুনা বা গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করা হয়নি। 

৩) শরিকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থকরা আরেকটি ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে যে “ জিততে পারে না” ন্যারেটিভ ছড়ানো

– উদ্দেশ্য: কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।বাস্তবতা: ইসলামী আন্দোলন বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছে। 

৪) এনসিপি অতিরঞ্জিতভাবে শক্তিশালী দেখানো- 

– যাতে ইসলামী আন্দোলনের আসন দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়

– যা বাস্তব ভোটের হিসাবের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক

সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় অপপ্রচার

৫) ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণের চেষ্টা- 

আসন সমঝোতার আলাপ আসার পরপরই শুরু হল ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা। ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল অবলম্বন করা হল। 

এই সবকিছু মিলিয়ে এটি স্পষ্ট—

এগুলো রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিকে ‘নাই’ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।

আজ কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—

১) যদি সবাই একসাথে জিতবে, তবে কেন শরিকদের দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা?

২) যদি সমঝোতা আন্তরিক হয়, তবে কেন ভেতরে ভেতরে ভিন্ন ন্যারেটিভ?

৩) ইসলামী আন্দোলন যদি জিততেই না পারে, তবে তাদের ভয় কেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জামায়াতকে দিতেই হবে।

ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান- 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়—

আমরা ঐক্যের পক্ষে,

আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সম্মানজনক সমঝোতার পক্ষে,

আমরা ইসলামী রাজনীতিকে একক মালিকানায় পরিণত করার বিপক্ষে,

ইসলামী আন্দোলন কারও করুণা বা দয়ার রাজনীতি করে না। আমাদের রাজনীতি ইসলাম,দেশ ও মানবতার কল্যাণে। আগেও ছিল আগামীতেও থাকবে,ইনশাআল্লাহ। 

আমাদের আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে আসায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক মুবারকবাদ জানাই। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের পাশে সবসময়ই থাকবেন,ধন্যবাদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।