বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টার্গেট নির্বাচন-নলডাঙ্গায় সক্রিয় হচ্ছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ

মনিরুল ইসলাম ,নাটোর প্রতিনিধিঃ পর্ব ৩~ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় সক্রিয় হচ্ছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করেছেন। বড় ধরনের সভা-সমাবেশ,আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে না থাকলেও,বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে মিটিং তারা। এমন কি,মানবাধিকার ও নামধারী মিডিয়ায় আড়ালে,ছন্দবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার বিরোধী একটি চক্র,বিভিন্ন পরিচয়ে নির্বাচনী মাঠে […]

টার্গেট নির্বাচন-নলডাঙ্গায় সক্রিয় হচ্ছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২১:৫৪

মনিরুল ইসলাম ,নাটোর প্রতিনিধিঃ

পর্ব ৩~

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় সক্রিয় হচ্ছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করেছেন। বড় ধরনের সভা-সমাবেশ,আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে না থাকলেও,বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে মিটিং তারা।

এমন কি,মানবাধিকার ও নামধারী মিডিয়ায় আড়ালে,ছন্দবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার বিরোধী একটি চক্র,বিভিন্ন পরিচয়ে নির্বাচনী মাঠে সরকার নিষিন্ধ রাজনৈতিক দলসহ শক্তিশালী মহলকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য স্থানের মতো নলডাঙ্গার আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তাঁদের প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন তৎপরতা ছিল না। সম্প্রতি উপজেলায় দেয়াল লিখন,নাশকতার চেষ্টা,বিভিন্ন সংস্থার কর্মশালায় নীরব উপস্থিতি,বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন মিটিং,নাশকতার চেষ্টার মাধ্যমে তাঁদের তৎপরতা সামনে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলা মাধনগর বাজার,মাধনগর ডিগ্রী কলেজ,শামসুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়,বাজারের প্রবেশ মুখে,বাজেহালতি ব্রীজ,আনিচ মোড়,ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়,বাঁশিলা মাদ্রাসা,বাঁশিলা হাইস্কুল,পাটুল-নলডাঙ্গা সড়ক,নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাজেহালতি ব্রীজ,খাজুরাসহ উপজেলা এলাকার দেয়ালে দেয়ালে “জয়বাংলা”স্লোগান লেখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়ালে লাল,কালো কালিতে এসব লেখা হয়।

বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম,শিবির নেতা আবু রায়হান,স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা উজ্জল রহমান,জাহিদুল ইসলাম,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলোন নাটোর জেলার সিনিয়র যুগ্ন আহব্বায়ক.মোঃ কাজি আসিকুর রহমান,যুবদলের এনায়েত হোসেনসহ অনেকে জানান,আওয়ামীলীগ গোপনে মাধনগর,খাজুরা,বাঁশিলায়-জয়বাংলা স্লোগান লেখা,বিভিন্ন স্থানে ৮ থেকে ১৫ জন টিম করে উপজেলার মাধনগর,বুড়িরভাগ,

নলডাঙ্গা রেল স্টেশন,অধিরেরমোড়,শীতলাই,চৈউখালি,বাঁশিলা,পশ্চিমসোনাপাতিল,পাঙ্গালব্রিজ,ঠাকুরলক্ষীকুল,চাঁদপুর,মহিষডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপন তৎপরতা এবং বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের গোপনে নাশকতার পরিক্ল্পনা ও গোপন কার্যকমে অব্যহত আছে।

তবে এ বিষয়ে কার্যকম নিষিন্ধ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস শুকুর বলেন,আমরা এমতিই বসে থাকি পারিবারিকসহ সব আলোচনাই হয়। রাস্তা ঘাটে আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাস করে রাজনীতির কি খবর। তবে অনেকেই চলে আসছে।

সম্প্রতি সময়ে আওয়ামীলীগের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ,মানববন্ধন করেছে পৌর-উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।

এসব কর্মসূচিতে বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গোপন মিটিং ও দেয়াল লিখন করেছে। যার কারণে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা প্রশাসনকে বারবার বলছি আপনারা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন,কিন্তু আজ পর্যন্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী একজন ও গ্রেপ্তার হয় নাই।

যার কারণে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি,এরপরে বড় কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না,যত দ্রুত পারেন আপনারা আওয়ামীলীগসহ,নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতার করুন। ৫ই আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বিভিন্ন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই,আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না,যদি আমাদের আইন হাতে তুলে নিতে হয় বাংলার মাটিতে কোন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না। সমাবেশ গুলোতে বক্তরা আরও বলেন,বিগত দিনে আমরা ৫জন লোক,এক জায়গায় হতে পারি নাই। আওয়ামীলীগের লোকজন,অনেক সর্বহারা লোক এখানে ঘোরাফেরা করছে। তাদেরকে যদি গ্রেফতার করা না হয়,আগামী দিনে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

নলডাঙ্গা থেকে পালিয়ে যাওয়া গিয়ে,নাটোর শহরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বর্তমান সরকার এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদে থাকা দলীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন হোয়াসআপ,টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা,নেতাকর্মীদের দিকনিদেশনা দিচ্ছে।

এছারা তারা নানা কৌশলে প্রসাশনের সাথে ও অন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মিশে নিজেদের মিশন বাস্তবায়ন করছে,বলে আমরা মনে করি। সম্প্রতি উপজেলার একটি মিডিয়া হাউজে সাংবাদিকের সামনে বিভিন্ন তথ্য,উপাত্ত তুলে ধরেন ছাত্র-জনতা।

সংবাদ সম্মেলনে,দিঘাপতিয়ায় এম.কে কলেজের শিক্ষার্থী কাজি শাহরিয়ার আহম্মেদ সিহাব,এন,এস কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ সাকিব ইসলাম,ব্যবসায়ী বুলবুল আহম্মেদ,মোঃ রাব্বি আহম্মেদ আরও জানান,কার্যকম নিষিন্ধ সংগঠন বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে গোপন মিটিং।

বিভিন্ন হোয়াসআপ,টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা,নেতাকর্মীদের দিকনিদেশনা দিচ্ছে। তারা নানা কৌশলে প্রসাশনের সাথে ও অন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মিশে নিজেদের মিশন বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন এলাকায় গোপন তৎপরতা এবং বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের গোপনে নাশকতার পরিক্ল্পনা ও গোপন কার্যকমে অব্যহত আছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা,মোঃ এরশাদ আলী জানান,নির্বাচন নিয়ে,নলডাঙ্গা উপজেলার পরিবেশ নিয়ে আমরা সর্তক অবস্থানে আছি। আমরা সবসময় উদ্ধর্তন কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফরমাজুল ইসলাম জানান,কেন্দ্র গুলো আমরা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করছি। নির্বাচন যাতে সঠিক ভাবে হয়,তা জন্য আমরা স্থানীয় প্রসাশন ও উদ্ধর্তন কর্মকতাদের সাথে সব সময়,আলোচনা ও সমন্নয় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা(ওসি)মোঃ নূরে আলম বলেন,কোন রকম বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে। নির্বাচন যেন সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হয়,এবং সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত আছে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।