মনিরুল ইসলাম ,নাটোর প্রতিনিধিঃ
পর্ব ৩~
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় সক্রিয় হচ্ছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করেছেন। বড় ধরনের সভা-সমাবেশ,আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে না থাকলেও,বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে মিটিং তারা।
এমন কি,মানবাধিকার ও নামধারী মিডিয়ায় আড়ালে,ছন্দবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার বিরোধী একটি চক্র,বিভিন্ন পরিচয়ে নির্বাচনী মাঠে সরকার নিষিন্ধ রাজনৈতিক দলসহ শক্তিশালী মহলকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য স্থানের মতো নলডাঙ্গার আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তাঁদের প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন তৎপরতা ছিল না। সম্প্রতি উপজেলায় দেয়াল লিখন,নাশকতার চেষ্টা,বিভিন্ন সংস্থার কর্মশালায় নীরব উপস্থিতি,বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন মিটিং,নাশকতার চেষ্টার মাধ্যমে তাঁদের তৎপরতা সামনে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলা মাধনগর বাজার,মাধনগর ডিগ্রী কলেজ,শামসুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়,বাজারের প্রবেশ মুখে,বাজেহালতি ব্রীজ,আনিচ মোড়,ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়,বাঁশিলা মাদ্রাসা,বাঁশিলা হাইস্কুল,পাটুল-নলডাঙ্গা সড়ক,নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাজেহালতি ব্রীজ,খাজুরাসহ উপজেলা এলাকার দেয়ালে দেয়ালে “জয়বাংলা”স্লোগান লেখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়ালে লাল,কালো কালিতে এসব লেখা হয়।
বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম,শিবির নেতা আবু রায়হান,স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা উজ্জল রহমান,জাহিদুল ইসলাম,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলোন নাটোর জেলার সিনিয়র যুগ্ন আহব্বায়ক.মোঃ কাজি আসিকুর রহমান,যুবদলের এনায়েত হোসেনসহ অনেকে জানান,আওয়ামীলীগ গোপনে মাধনগর,খাজুরা,বাঁশিলায়-জয়বাংলা স্লোগান লেখা,বিভিন্ন স্থানে ৮ থেকে ১৫ জন টিম করে উপজেলার মাধনগর,বুড়িরভাগ,
নলডাঙ্গা রেল স্টেশন,অধিরেরমোড়,শীতলাই,চৈউখালি,বাঁশিলা,পশ্চিমসোনাপাতিল,পাঙ্গালব্রিজ,ঠাকুরলক্ষীকুল,চাঁদপুর,মহিষডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপন তৎপরতা এবং বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের গোপনে নাশকতার পরিক্ল্পনা ও গোপন কার্যকমে অব্যহত আছে।
তবে এ বিষয়ে কার্যকম নিষিন্ধ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস শুকুর বলেন,আমরা এমতিই বসে থাকি পারিবারিকসহ সব আলোচনাই হয়। রাস্তা ঘাটে আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাস করে রাজনীতির কি খবর। তবে অনেকেই চলে আসছে।
সম্প্রতি সময়ে আওয়ামীলীগের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ,মানববন্ধন করেছে পৌর-উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।
এসব কর্মসূচিতে বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গোপন মিটিং ও দেয়াল লিখন করেছে। যার কারণে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা প্রশাসনকে বারবার বলছি আপনারা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন,কিন্তু আজ পর্যন্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী একজন ও গ্রেপ্তার হয় নাই।
যার কারণে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি,এরপরে বড় কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না,যত দ্রুত পারেন আপনারা আওয়ামীলীগসহ,নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতার করুন। ৫ই আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বিভিন্ন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই,আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না,যদি আমাদের আইন হাতে তুলে নিতে হয় বাংলার মাটিতে কোন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না। সমাবেশ গুলোতে বক্তরা আরও বলেন,বিগত দিনে আমরা ৫জন লোক,এক জায়গায় হতে পারি নাই। আওয়ামীলীগের লোকজন,অনেক সর্বহারা লোক এখানে ঘোরাফেরা করছে। তাদেরকে যদি গ্রেফতার করা না হয়,আগামী দিনে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
নলডাঙ্গা থেকে পালিয়ে যাওয়া গিয়ে,নাটোর শহরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বর্তমান সরকার এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদে থাকা দলীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন হোয়াসআপ,টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা,নেতাকর্মীদের দিকনিদেশনা দিচ্ছে।
এছারা তারা নানা কৌশলে প্রসাশনের সাথে ও অন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মিশে নিজেদের মিশন বাস্তবায়ন করছে,বলে আমরা মনে করি। সম্প্রতি উপজেলার একটি মিডিয়া হাউজে সাংবাদিকের সামনে বিভিন্ন তথ্য,উপাত্ত তুলে ধরেন ছাত্র-জনতা।
সংবাদ সম্মেলনে,দিঘাপতিয়ায় এম.কে কলেজের শিক্ষার্থী কাজি শাহরিয়ার আহম্মেদ সিহাব,এন,এস কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ সাকিব ইসলাম,ব্যবসায়ী বুলবুল আহম্মেদ,মোঃ রাব্বি আহম্মেদ আরও জানান,কার্যকম নিষিন্ধ সংগঠন বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চলছে গোপন মিটিং।
বিভিন্ন হোয়াসআপ,টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা,নেতাকর্মীদের দিকনিদেশনা দিচ্ছে। তারা নানা কৌশলে প্রসাশনের সাথে ও অন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মিশে নিজেদের মিশন বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন এলাকায় গোপন তৎপরতা এবং বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের গোপনে নাশকতার পরিক্ল্পনা ও গোপন কার্যকমে অব্যহত আছে।
নলডাঙ্গা উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা,মোঃ এরশাদ আলী জানান,নির্বাচন নিয়ে,নলডাঙ্গা উপজেলার পরিবেশ নিয়ে আমরা সর্তক অবস্থানে আছি। আমরা সবসময় উদ্ধর্তন কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফরমাজুল ইসলাম জানান,কেন্দ্র গুলো আমরা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করছি। নির্বাচন যাতে সঠিক ভাবে হয়,তা জন্য আমরা স্থানীয় প্রসাশন ও উদ্ধর্তন কর্মকতাদের সাথে সব সময়,আলোচনা ও সমন্নয় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা(ওসি)মোঃ নূরে আলম বলেন,কোন রকম বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে। নির্বাচন যেন সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হয়,এবং সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত আছে।