মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠকে মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসন তিনটি দলের মধ্যে ভাগাভাগি করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে ভিন্ন ভিন্ন দলকে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও একটি আসনে প্রার্থী সংকট ও আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনটি ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা হয়েছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কে এম আতিকুর রহমান ইতোমধ্যে মনোনয়ন সংগ্রহ করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মাজেদুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য ঘোষণা করা হলেও এ আসনে দলটির কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি নুর হোসাইন নুরানি মনোনয়ন জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
এ বিষয়ে আগামী ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সুমন দেওয়ান মাঠে রয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন জোটভুক্ত দলগুলোর নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষে আসনভিত্তিক সমঝোতার তথ্য তুলে ধরেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আসন বণ্টনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৭৯টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই এই আসন বণ্টন করা হয়েছে এবং বাকি জটিলতাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান করা হবে।