নুরুল আলম কামাল ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার সদরে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিল এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশ রাতভর দেন দরবার করে হাতকড়া উদ্ধার করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসামির মা রুবিনা আক্তার (৪২) কে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে সদরের নূরুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ওসি আল মামুন সরকার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রেমিক রবিন মিয়া (২২) উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের নূরুলিয়া গ্রামের মুজিবুর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আগে বছর ধরে রবিন মিয়ার রাজশাহী এলাকার একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা দুজনেই পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করে। রবিন তার পরিবার কে রাজি করিয়ে বাড়িতেই দাম্পত্য জীবন শুরু করে।
কিন্তু বিষয়টি মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। মেয়ে বাবা তার এলাকার থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। এ মামলায় রাজশাহীর ওই থানার পুলিশ মঙ্গলবার মেয়েকে উদ্ধার করতে এবং আসামি ধরতে নেত্রকোনায় আসে। পরে সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে রবিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ হাতকড়া পরায়।
রবিনের পরিবারের লোকজনের ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন ঝড়ো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ওই যুগলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ স্থানীয় চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান কে নিয়ে রাতভর দেন দরবার করেন।
কিন্তু এলাকাবাসী ওই প্রেমিক যুগল কে ফেরত দেয়নি। শেষে কোন উপায় না দেখে স্থানীয়দের সহযোগীতায় হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভোর রাত ৫টার দিকে এলাকার লোকজন চলে যাওয়ার পর রবিনের মা রুবিনা আক্তার কে আটক করে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসে।
চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, নূরুলিয়া গ্রামের রবিন রাজশাহীর একটি মেয়েকে পরিবারের অমতে বিয়ে করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় পুলিশ রবিন আটক করে মেয়েকে উদ্ধার করে।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন রবিনসহ মেয়েটিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ আমাকে খবর দিলে আমরা তাদের কে বুঝানোর অনেক চেষ্টা করি। তারপরও এলাকাবাসী পুলিশের কাছে সোপর্দ করেনি। শেষে এলাকার রবিনের মাকে আটক করে।
হাতকড়াসহ আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আল মামুন সরকার বলেন, রাজশাহী এলাকার পুলিশ সদর থানা পুলিশ নিয়ে রবিনকে আটক করে মেয়েটিকেও উদ্ধার করে।
পরে এলাকার লোকজন তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছেলের মা রুবিনা আক্তার কে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।