মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নে চুরির ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বেহেরপাড়া গ্রামে গরু, মোবাইল ফোন, হাঁস-মুরগি ও কৃষি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের ফাঁড়ি কাছেই থাকলেও চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে গভীর রাত হলেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। শীত মৌসুমে কুয়াশা ঘন হওয়ার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চোরেরা গোয়ালঘর ও বসতঘরে হানা দিচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও খামারিরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দিঘীরপাড়ের চরাঞ্চলকে ঘিরে একটি সক্রিয় গরু চোর সিন্ডিকেট কাজ করছে। একাধিক গ্রুপ একসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু বাড়িতে সিঁদ কেটে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ নবীর হোসেন জানান, গরু চুরি করতে এসে চোরেরা তার মোটরসাইকেলও নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “এই মোটরসাইকেল চালিয়েই সংসার চালাতাম। চুরির পর থেকে পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।” নিরাপত্তার অভাবে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, সম্প্রতি শুক্কুর তপদ্দারের গোয়ালঘর থেকে গরু, রাজাবাড়ী এলাকার কৃষকদের পানির পাম্পের ইঞ্জিন, মহিউদ্দিন মাদবরের গরু এবং সায়েদ জমাদারের আলু সংরক্ষণের বাক্স চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত চোর শনাক্ত বা মালামাল উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিঘীরপাড় ইউনিয়নে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও নিয়মিত টহলের অভাবে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, রাতে বাড়িতে নারী ও শিশুদের রেখে বাইরে যাওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল হক ডাবলু জানান, এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিগগিরই একটি আইন-শৃঙ্খলা সভার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, চরাঞ্চল হওয়ায় নৌপথে চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত টহলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।