নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি মার্চেন্টস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর তিন শিক্ষার্থীকে স্টিলের স্কেল দিয়ে মেরে রক্তাক্ত ও যখম করার অভিযোগে অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
গত সোমবার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সময় প্রক্সি শিক্ষিকা শাম্মী সিরাজী চতুর্থ শ্রেণীর ৩ শিশু ছাত্রীদের সাথে এ ঘটনা ঘটায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চিলাহাটি মার্চেন্টস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ এরশাদুল হক জিল্লু ছুটিতে থাকায় তার পরিবর্তে সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী সিরাজী চতুর্থ শ্রেণীর অংক ক্লাস নিতে যায়। তিনি প্রধান শিক্ষকের পড়তে ও লিখতে দেওয়া ১৩ ও ১৪ ঘরের নামতা শিক্ষার্থীদের লিখে নেওয়ার পর ১৫ থেকে ১৭ ঘরের নামতা লিখতে বলে ।
শিক্ষার্থীরা লিখতে না পারায় উক্ত শিক্ষিকা ক্ষিপ্ত হয় ওই ক্লাসের শিক্ষার্থী জুমানা আক্তার রোল ১৪, তবিবা আলম রোল ৮, মোবাশ্বিরা রোল ৬ কে স্টিলের স্কেল দিয়ে এলোপাতাড়ি বেদম প্রহার করে। এতে ক্লাসে জুমানা আক্তার মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়, তোবিবা আলমের হাত কেটে রক্তাক্ত হয় ও মোবাশ্বিরা গালে ও হাতে প্রচন্ড আঘাত পায়। তারা কান্না করতে করতে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানান।
তাদের অভিভাবকরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে অবগত করে। প্রধান শিক্ষক তাদের লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলে।
তবিবার পিতা খোরশেদ আলম বাবু বলেন, যে পড়া স্কুলে শেখানো বা লেখানো শেখা হয়নি সেই পড়া লিখতে দিয়ে আমার মেয়েকে ক্লাসে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে আমি এর সুবিচার চাই।
জুমানার পিতা আব্দুল জলিল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার মন মানসিকতা মাতৃ সুলভ হওয়া উচিত । কিন্তু সহকারি শিক্ষিকা শাম্মী সিরাজী এত হিংস্র কেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার অনেক অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষিকা
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাম্মী সিরাজী বলেন, ক্লাসে তারা আমার কোথা না শুনায় একটু শাসন করেছি। তবে হাত কেটে গেছে তা আমি বুঝতে পারিনি। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
প্রধান শিক্ষক শাহ এরশাদুল হক জিল্লু বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।