(সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালী
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে দেখা গেছে টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। ফলে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে উত্তপ্ত।
সুবর্ণচর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডিলার সিন্ডিকেটে ইচ্ছে মতো এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার দোকানে খালি সিলিন্ডারের বোতল দেখা যাচ্ছে।
তাদের দাবি ডিলার অতিরিক্ত দাম ছাড়া গ্যাস দিচ্ছে না। আর কোথাও মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহ সংকট থাকায় তারা গ্যাস পাচ্ছেন না বলেই বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জানা যায়, একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলা পর্যায়েও। আবাসিক রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংকটে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চরবাটা ইউনিয়নের গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন এ প্রতিবেদকে জানান, আগে একটি সিলিন্ডার গ্যাস ১২ কেজির আমরা ১৩৭০ থেকে ১৪৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এখন এ দামে গ্যাস পাচ্ছি না। ১৬০০শ থেকে ১৭০০শ পর্যন্ত দাম নিচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী। শুনেছি সরকার গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা করেছে। এটা কাগজে কলমে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রশাসনের নিরবতায় আমাদের জিম্মি করে একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, গত মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপি সিলিন্ডার কিনেছি ১ হাজার ৩৮০ টাকায়, সাথে ২০ টাকা পরিবহন খরচসহ। কিন্তুু এ মাসে বাসার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে এসে কোনো দোকানেই গ্যাস পাচ্ছি না। পরে সমস্ত বাজার ঘুরে ভূঞারহাট বাজারের একটা দোকান থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছি।
চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সুবর্ণচর উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে দাবি ডিলারদের।
খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম এ প্রতিদেককে জানান, আমার দোকানে আজ ৪/৫ দিন গ্যাস দিচ্ছে না সুবর্ণচরের সবচেয়ে বড় গ্যাস ডিলার। পরে আমি ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম কেন তিনি দিচ্ছেন না গ্যাস, এরপর তিনি আমাকে বলেন অতিরিক্ত দাম হলে কিছু মাল দিতে পারবো। না হলে এখন গ্যাস নেই এ বলে ফোন কেটে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও ডিলার সিন্ডিকেট কৃত্তিম সংকট তৈরি করে গ্রাহকদের জিম্মি করে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এতে করে খুচরা দোকানে গ্যাস সরবরাহ না করে ডিলার সিন্ডিকেট ভোক্তাপর্যায়ে তীব্র সংকটে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, চরবাটার তালতলী নামক স্থানের পাশে সুবর্ণচরে বাবুল ট্রেডার্সের পেট্রোম্যাক্স ডিলার পয়েন্ট, সাদিয়া ট্রেডার্সের আই গ্যাস,ওমেরা, টোটাল গ্যাসসহ বিশাল গোডাউন রয়েছে চরমজিদ ভূঞারহাট জনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
এছাড়াও বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটের ডিলার ফারুকের ডেলটা গ্যাস, সান গ্যাস সুবর্ণচরে পাওয়া যায়। এ সিন্ডিকেটের ডিলার চক্র ভোক্তাদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও নিরব দর্শক প্রশাসন!
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে ভোক্তাপর্যায়ে চলতি জানুয়ারি মাসে এলপিজির দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ঘোষিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি বোতলজাত এলপিজির দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে একই পরিমাণ এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, আমরা দ্রুত বাজার গুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। ভোক্তাদের হয়রাণী কোনক্রমে সহ্য করা হবে না।