পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে জোটের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন।
রবিবার সন্ধ্যায় দশমিনা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর। আমি এখানে এসেছি তার পক্ষে কাজ নিশ্চিত করতে। সবাইকে তার মার্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে—এটাই কেন্দ্রের নির্দেশ।”
তবে সভা চলাকালীন সময়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নুরের অনুসারী নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির একাংশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই দলীয় কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ প্রসঙ্গে বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, “আমি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি—তারা জোটের সিদ্ধান্ত মেনে নুরের পক্ষে কাজ করবেন। দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিএনপি এই আসনে নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছাড় দিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জনপ্রিয় নেতা হাসান মামুন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য—এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে গত ৩০ তারিখ রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে হাসান মামুনসহ ৯ জন নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে, নুরুল হক নুরের সঙ্গে আসন সমঝোতা থাকলেও গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির একটি বড় অংশ এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছে—এমন অভিযোগ করে আসছিল গণঅধিকার পরিষদ। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে অভিযোগ দেন নুরুল হক নুর।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের এই সফর বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি সেহ্নাশু সরকার কুট্রি, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যা আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।