আবু বক্কর সিদ্দিক, কক্সবাজার উখিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “বিগত ১৬ বছর ধরে কক্সবাজারকে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবার স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে সেই নেতিবাচক তকমা মুছে ফেলার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ; একে রক্ষা করতে হবে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে।”
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইপসা’ (YPSA) এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সৈকতের বালি ও আশপাশের এলাকায় নিজ হাতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং পর্যটকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি বলেন, “সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল প্রশাসনের কাজ নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব। পর্যটকরা যাতে একটি সুন্দর ও দূষণমুক্ত পরিবেশ পায়, সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
সরাসরি পর্যটকদের সঙ্গে মতবিনিময়
কর্মসূচি চলাকালে মেয়র সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি তাদের কাছে সৈকতের পরিবেশ নিয়ে মতামত জানতে চান এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি পর্যটন সেবার মান উন্নয়নে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইপসার পরিচালক ড. আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান লায়ন মুজিবুর রহমান এবং ছাত্রদল নেতা ডা. মাহামুদুল হক জনি। এছাড়াও ট্যুরিস্ট পুলিশ, বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এই অভিযানে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের অর্থনীতি মূলত পর্যটন কেন্দ্রিক। মাদক বা অপরাধের সংবাদ ছাপিয়ে যদি এই শহরের আতিথেয়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে প্রচার করা যায়, তবে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।