রবিউল আলম, কুমিল্লা
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত মিজি ব্রিকস নামক একটি ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের পরপরই ভাটার কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি ২০২৬) পরিচালিত অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে জানানো হয়, নিষিদ্ধ এলাকায় অবৈধভাবে মিজি ব্রিকস ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। অভিযানে প্রসিকিউশন দাখিল করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার ইন্সপেক্টর জোবায়ের হোসেন।
এ সময় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৮(৩) লঙ্ঘনের অপরাধে ১৫(২) ধারা অনুযায়ী ভাটার মালিক পক্ষকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালে ইটভাটার কিলনের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং অর্থদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক ও তার টিম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভিন রুহি এবং থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন চলে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ইটভাটার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। তারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইটভাটায় অভিযানের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, চুল্লিতে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা এবং কাঁচা ইট ধ্বংস করা হলেও এখানে সে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, কিলনের সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে না দিয়ে আংশিক গাট ওয়াল ভাঙা হয়েছে, যা ভাটাটি পুনরায় চালুর সুযোগ করে দিয়েছে। এতে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। অর্থের জোর না থাকায় আমরা অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়তে পারছি না।
মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, আমরা সব সেক্টর ম্যানেজ করেই ভাটা চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মোসাব্বার হোসেন রাজিব বলেন, মিজি ব্রিকস সম্পূর্ণ অবৈধ—এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। তিনি চাইলে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পারেন।
অন্যদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভিন রুহি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের যতটুকু নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা ঠিক ততটুকুই ব্যবস্থা নিয়েছি।
এদিকে প্রশাসনের এমন অবস্থানে হতাশ স্থানীয়রা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কৃষিজমি ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।