মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর
হাড় কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুর জেলার জনজীবন। টানা শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি শীত মৌসুমে এবং দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই জেলায়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (আজ) সকাল ৯ টায় মেহেরপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। সঙ্গে রয়েছে উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা। অনেক সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে দেখা যাচ্ছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও পথচারীরা জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই শীত থেকে বাঁচতে খড়-কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠছে।
খেটে খাওয়া মানুষজন বলেছেন “শীতের কাপড় একাধিক স্তর পরেও শরীর গরম থাকে না। কোনো অংশ খোলা থাকলেই হিম শীত লাগছে। কাজের খোঁজে সকাল থেকে বের হলেও শীতের কারণে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।”
শীত ও কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগেও বাড়তি ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে ও অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাচ্ছেন। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে।