রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (আমতলী-তালতলী ও বরগুনা সদর) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে বাছাই শেষে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা শীর্ষে থাকলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে। অপর চার প্রার্থী তুলনামূলকভাবে কম সম্পদের হলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওলি উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের মো. মহিবুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি-জেপির জামাল হোসাইন।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ছিল ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সাত বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৩১ গুণ। ২০১৮ সালে তাঁর স্ত্রীর নামে ৩৫ ভরি স্বর্ণ দেখানো হলেও বর্তমান হলফনামায় স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণের উল্লেখ নেই; তবে নিজ নামে ৬০ হাজার টাকার স্বর্ণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা অন্য চার প্রার্থীর নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওলি উল্লাহর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ ভরি স্বর্ণ। তিনি মৌসুমি ব্যবসা ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ থেকে এ সম্পত্তি অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের প্রার্থী মো. মহিবুল্লাহর মোট সম্পদের মূল্য ৭৪ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণ ও ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে স্ত্রীর নামে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। তিনি শিক্ষকতা ও পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইনের নিজের নামে রয়েছে ৩০ ভরি, স্ত্রীর নামে ৫ ভরি এবং নির্ভরশীলদের নামে ১০ দশমিক ৩ গ্রাম স্বর্ণ। তাঁর নিজের নামে সম্পদের মূল্য ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ২১২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ লাখ টাকার সম্পত্তি। স্বর্ণের পরিমাণের দিক থেকে তিনি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে। তিনি আইন পেশা ও পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ থেকে এ সম্পত্তি অর্জনের কথা জানিয়েছেন।
জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী জামাল হোসাইনের নামে রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণ, ৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩০ হাজার টাকা বৈদেশিক মুদ্রা। তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পত্তির তথ্য নেই।
সম্পদের দিক থেকে নজরুল ইসলাম মোল্লা প্রথম, ওলি উল্লাহ দ্বিতীয়, মো. মহিবুল্লাহ তৃতীয়, জাহাঙ্গির হোসাইন চতুর্থ এবং জামাল হোসাইন পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন। প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী জামাল হোসাইন বলেন, ‘আমার কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। হলফনামা একজন আইনজীবী পূরণ করেছেন, সেখানে ভুলবশত এটি লেখা হয়েছে।’ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইন বলেন, ‘হলফনামায় দেওয়া সব তথ্য সঠিক। আইন পেশা থেকেই আমার আয়।’ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি শিক্ষকতা করি। চাকরি ও পৈতৃক সম্পত্তির তথ্যই হলফনামায় দেওয়া হয়েছে।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওলি উল্লাহ বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসা ও বাবার সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়ের তথ্যই হলফনামায় উল্লেখ করেছি।’ বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমার সম্পত্তি বাড়েনি। বরগুনা শহরের কয়েকটি দামী জমি ও একটি মূল্যবান বাড়ি বিক্রি করায় টাকার অঙ্কে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।’