শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি মানলেন না “আশা এনজিও”

মোঃ জয়নাল আবেদিন জয়, রাজশাহী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন।   জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় । ছুটিকালীন সকল সরকারি, […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০:২০

মোঃ জয়নাল আবেদিন জয়, রাজশাহী

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন। 

 জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় । ছুটিকালীন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকিবে। শুধুমাত্র রাজশাহীতে  সর্ববৃহৎ আত্মনির্ভরশীল ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা (ASA) ছুটি না মেনে অফিস চলমান রাখে। শুধু তাই নয় 

রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাঞ্চে বাঞ্চে পিকনিকের আয়োজনও করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশা এনজিও রাজশাহীর ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন,আজকে একটি বিশেষ দিন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রেীয় শোকশহ ৩১ ডিসেম্বর রোজ বুধবার ১(এক)দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছেন।

তাহলে আপনারা সরকারি ছুটি জানার পরেও সরকারি আদেশ অমান্য করে কিভাবে অফিসের কার্যক্রম চালু রেখেছেন ? তখন তিনি বলেন, আমাদের অফিস আর আবাসিক একই সাথে আপনারা হয়তো জানেন,আজকে বৎসরের শেষ দিন অনেক হিসাব নিকাশ থাকে অফিসে হয়তো নিজেদের উদ্যোগে সেই গুলো সেরে নিচ্ছেন। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আপনারা সরাসরি সরকারি আদেশ পরিপন্থী কাজ করেছেন না,তখন তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে আশা এনজিও রাজশাহীর ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) লতিফ সাহেব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আজকে তো সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছে,আমাদের আশা এনজিও হেড অফিস থেকে সরকারের সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে নোটিশ জারি করেছে,তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়,তাহলে আপনারা অফিস কার্যক্রম চালু রেখেছেন কিভাবে সরকারি আদেশ অমান্য করে,এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,কোন সদস্যর হয়তোবা পূর্বে কোন বকিয়া আছে,সেই জন্য কর্মী হয়তো নিজের উদ্যোগে কালেকশনের জন্য যেতে পারে,আর আজকে বৎসরের শেষ দিন সেই জন্য হয়তো নিজেরা অফিসে বসে হিসাব নিকাশ এর জন্য দুই এক ঘন্টা কার্যক্রম চালাতে পারে,তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আপনারা সরকারি আদেশ অমান্য করলেন না,আপনারা এক ঘন্টা কার্যক্রম চালান আর আট ঘন্টা কার্যক্রম চালান চালিয়েছেন তো,সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিস কার্যক্রম চালু রেখেছেন কিভাবে এটা কি আপনারা পারেন?এর কোন সদউত্তর না দিয়ে 

 তিনি ফোন কেটে দেন।

রাজশাহীর আশা এনজিও (সদর) এরিয়া ম্যানেজার মিজান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ডিভিশনাল ম্যানেজার রফিক সাহেব এবং ডিএম লতিফ সাহেব এর বক্তব্য সাথে তাল মিলিয়ে একই বক্তব্য প্রদান করেন।

সরজমিন বোয়ালিয়া এরিয়া ম্যানেজার অফিসে গিয়ে দেখা দেখা যায় ভিন্ন আরেক চিত্র। অফিস খোলা কেন প্রশ্নে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারবো না এটা এরিয়া ম্যানেজার জানে। পরে বোয়ালিয়া অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে রিপোর্টার বলার পরে পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

 সরকারি নির্দেশনা আছে তিনদিন সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে কিন্তু আশার রাজশাহী মহানগরীর কোন অফিসে ছিলো না। 

বোয়ালিয়া অঞ্চলের বোয়ালিয়া অফিস, লক্ষীপুর অফিস, হরিপুর অফিস, রাজপাড়া অফিস, সাহেব বাজার অফিস এই সব গুলোতে কোনটাতেই পতাকা 

অর্ধনমিত ছিলো না। তিনি কিছু অফিসে পিকনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে যানা যায় এবং পুলিশের বাঁধায় লক্ষীপুর অফিসে বন্ধ হয়। 

এরিয়া ম্যানেজার(আর এম) মোঃ মুকুল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবাসিকে লোকজন থাকা তাদের কিছু ডিউ কাজ থাকা তারা হয়তো কাজ করছে। আমি কোন নির্দেশনা দেইনি। তারা নিজ দায়িত্বে কাজ করছে। লক্ষীপুর ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে একাধিক বার ফোন দিলে সেকেন্ড ম্যানেজার ফোন ধরে বলেন ম্যানেজার স্যার নেই পরে ফোন দিয়েন পরে ফোন দিলে তিনি আর ফোন ধরেননি। পরে মহানগরীর অফিস গুলোতে ফোন দিলে আর কোন ম্যানেজারেরা ফোন না ধরায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

রাজপাড়া (আরএমপি) থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ মতিন’কে আশা এনজিও অনিয়ম ও সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিস কার্যক্রম চালু রাখাসহ রাজশাহী লক্ষীপুর ব্রাঞ্চে জাতীয় শোকের দিনে কালো পতাকা উত্তোলন বা জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রেখে তারা পিকনিক ও আনন্দ উল্লাস করছে,এ বিষয়ে জানালে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ মতিন সাথে সাথে আশা এনজিও লক্ষীপুর ব্রাঞ্চে টহল পুলিশ টিম পাঠালে তারা তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যায়। 

এই বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মোহাঃ সবুর আলী কে জানালে তিনি বলেন, আশা এনজিও যদি সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিসের কার্যক্রম চালু রাখে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।