মোঃ জয়নাল আবেদিন জয়, রাজশাহী
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় । ছুটিকালীন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকিবে। শুধুমাত্র রাজশাহীতে সর্ববৃহৎ আত্মনির্ভরশীল ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা (ASA) ছুটি না মেনে অফিস চলমান রাখে। শুধু তাই নয়
রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাঞ্চে বাঞ্চে পিকনিকের আয়োজনও করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশা এনজিও রাজশাহীর ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন,আজকে একটি বিশেষ দিন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রেীয় শোকশহ ৩১ ডিসেম্বর রোজ বুধবার ১(এক)দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছেন।
তাহলে আপনারা সরকারি ছুটি জানার পরেও সরকারি আদেশ অমান্য করে কিভাবে অফিসের কার্যক্রম চালু রেখেছেন ? তখন তিনি বলেন, আমাদের অফিস আর আবাসিক একই সাথে আপনারা হয়তো জানেন,আজকে বৎসরের শেষ দিন অনেক হিসাব নিকাশ থাকে অফিসে হয়তো নিজেদের উদ্যোগে সেই গুলো সেরে নিচ্ছেন। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আপনারা সরাসরি সরকারি আদেশ পরিপন্থী কাজ করেছেন না,তখন তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে আশা এনজিও রাজশাহীর ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) লতিফ সাহেব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আজকে তো সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছে,আমাদের আশা এনজিও হেড অফিস থেকে সরকারের সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে নোটিশ জারি করেছে,তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়,তাহলে আপনারা অফিস কার্যক্রম চালু রেখেছেন কিভাবে সরকারি আদেশ অমান্য করে,এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,কোন সদস্যর হয়তোবা পূর্বে কোন বকিয়া আছে,সেই জন্য কর্মী হয়তো নিজের উদ্যোগে কালেকশনের জন্য যেতে পারে,আর আজকে বৎসরের শেষ দিন সেই জন্য হয়তো নিজেরা অফিসে বসে হিসাব নিকাশ এর জন্য দুই এক ঘন্টা কার্যক্রম চালাতে পারে,তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আপনারা সরকারি আদেশ অমান্য করলেন না,আপনারা এক ঘন্টা কার্যক্রম চালান আর আট ঘন্টা কার্যক্রম চালান চালিয়েছেন তো,সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিস কার্যক্রম চালু রেখেছেন কিভাবে এটা কি আপনারা পারেন?এর কোন সদউত্তর না দিয়ে
তিনি ফোন কেটে দেন।
রাজশাহীর আশা এনজিও (সদর) এরিয়া ম্যানেজার মিজান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ডিভিশনাল ম্যানেজার রফিক সাহেব এবং ডিএম লতিফ সাহেব এর বক্তব্য সাথে তাল মিলিয়ে একই বক্তব্য প্রদান করেন।
সরজমিন বোয়ালিয়া এরিয়া ম্যানেজার অফিসে গিয়ে দেখা দেখা যায় ভিন্ন আরেক চিত্র। অফিস খোলা কেন প্রশ্নে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারবো না এটা এরিয়া ম্যানেজার জানে। পরে বোয়ালিয়া অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে রিপোর্টার বলার পরে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা আছে তিনদিন সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে কিন্তু আশার রাজশাহী মহানগরীর কোন অফিসে ছিলো না।
বোয়ালিয়া অঞ্চলের বোয়ালিয়া অফিস, লক্ষীপুর অফিস, হরিপুর অফিস, রাজপাড়া অফিস, সাহেব বাজার অফিস এই সব গুলোতে কোনটাতেই পতাকা
অর্ধনমিত ছিলো না। তিনি কিছু অফিসে পিকনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে যানা যায় এবং পুলিশের বাঁধায় লক্ষীপুর অফিসে বন্ধ হয়।
এরিয়া ম্যানেজার(আর এম) মোঃ মুকুল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবাসিকে লোকজন থাকা তাদের কিছু ডিউ কাজ থাকা তারা হয়তো কাজ করছে। আমি কোন নির্দেশনা দেইনি। তারা নিজ দায়িত্বে কাজ করছে। লক্ষীপুর ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে একাধিক বার ফোন দিলে সেকেন্ড ম্যানেজার ফোন ধরে বলেন ম্যানেজার স্যার নেই পরে ফোন দিয়েন পরে ফোন দিলে তিনি আর ফোন ধরেননি। পরে মহানগরীর অফিস গুলোতে ফোন দিলে আর কোন ম্যানেজারেরা ফোন না ধরায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজপাড়া (আরএমপি) থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ মতিন’কে আশা এনজিও অনিয়ম ও সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিস কার্যক্রম চালু রাখাসহ রাজশাহী লক্ষীপুর ব্রাঞ্চে জাতীয় শোকের দিনে কালো পতাকা উত্তোলন বা জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রেখে তারা পিকনিক ও আনন্দ উল্লাস করছে,এ বিষয়ে জানালে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ মতিন সাথে সাথে আশা এনজিও লক্ষীপুর ব্রাঞ্চে টহল পুলিশ টিম পাঠালে তারা তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যায়।
এই বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মোহাঃ সবুর আলী কে জানালে তিনি বলেন, আশা এনজিও যদি সরকারি আদেশ অমান্য করে অফিসের কার্যক্রম চালু রাখে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।