রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (আমতলী-তালতলী-বরগুনা সদর) আসনে নাম সর্বস্ব দলের প্রার্থী ও কর্মীবিহীন স্বতন্ত্র মিলিয়ে ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রার্থীকে নাম লেখাতেই এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি সাধারণ ভোটারদের। স্থানীয়দের ভাষ্য, এদের প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোটার চেনেন না।
জানা গেছে, গত সোমবার বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন- বিএনপির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. মহিবুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গির হোসাইন, জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন এবং আমতলী উপজেলা থেকে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান।
এই ছয় প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের মো. জাহাঙ্গির হোসাইন, জাতীয় পার্টি–জেপির মো. জামাল হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমানকে নাম সর্বস্ব প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাদের কোনো দৃশ্যমান কর্মী, সমর্থক বা রাজনৈতিক তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ ভোটার এসব প্রার্থীর নামই শোনেননি।
চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের ভোটার জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, “কোনদিনই দুই প্রার্থীর নাম শুনিনি। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। এরা শুধু নিজেদের নাম জাহির করতেই প্রার্থী হয়েছেন। এদের কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।”
গাবতলী গ্রামের ভোটার শহীদুল ইসলাম বলেন, “কর্মীবিহীন একলা নেতার দলের প্রার্থী এরা।”
দক্ষিণ তক্তবুনিয়া গ্রামের ভোটার শিবলী শরীফ বলেন, “বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমানকে চিনি। অলি উল্লাহ ও মহিবুল্লাহর নাম শুনেছি, কিন্তু দেখিনি। অন্য দুই প্রার্থীকে একেবারেই চিনি না।”
জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই অনেকে আমাকে চিনে না। তবে এলাকার মানুষ আমাকে চেনে।” তিনি আরও বলেন, “দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলাম। প্রস্তাবক ও সমর্থক স্থানীয় ভোটার না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এবার নিজ এলাকা থেকেই নির্বাচন করছি।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, “দুইজন প্রার্থী নাম সর্বস্ব দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগণের কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এসব দলের কোনো কার্যালয়, সাইনবোর্ড, সাংগঠনিক কাঠামো বা কার্যক্রম নেই। শুধু নাম জাহির করতেই তারা প্রার্থী হয়েছেন।”
শেষ পর্যন্ত এসব প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে থাকলে তাদের জামানত হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।