রবিউল আলম, কুমিল্লা
কুমিল্লার গোমতী নদীতে অবৈধভাবে মাটির ব্যবসার কারণে বাঁধ, সড়ক ও সেতু চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে বাঁধের মাটি কেটে নেয়ায় পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত গোমতী নদীর দুই পাশে চলে মাটি কাটা।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা না মেনেই প্রতিদিন শত শত ট্রাক ওঠানামা করছে নদীর বাঁধ দিয়ে। শীত আসার পরপরই দুই বাঁধজুড়ে শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব।
গোমতী চরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করা হয়ে থাকে। অথচ গোমতী নদীর চরে একটি চক্র নির্বিঘ্নে কেটে নিচ্ছে গোমতী পাড়ের ফসলি জমি। এতে হুমকির মুখে নদী পাড়ের কৃষিব্যবস্থাও।
স্থানীয় রা বলেন,নদীর ‘জমিতে আমরা সবজি চাষাবাদ করতাম। সব জমি কেটে নিয়ে গেছে। এবার ৩ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছি। জমির জন্য চাষাবাদ করতে পারি না।’
স্থানীয়রা বলেন-‘যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে আর কিছুদিন পর নদীর বাঁধ থাকবে না। ব্রিজও ভেঙে পড়বে। সকাল থেকে শুরু হয় মাটি কাটা। সারা রাত মাটি কাটা চলে; শুধু ট্রাক আর ট্রাক। রাস্তাঘাটও শেষ। প্রশাসন যখন আসে তখন কেউ থাকে না। প্রশাসন চলে গেলে আবার কাটা শুরু হয়।’
গোমতীর অবৈধ মাটি কাটার ই মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন ইটভাটার মালিকরাও। প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাটা হচ্ছে মাটি। আর সেই মাটি নেয়া হচ্ছে জেলাজুড়ে গড়ে ওঠা বৈধ অবৈধ ইটভাটাগুলোতে। মাটি বহনকারী ট্রাকের চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার এমরান ব্রিকস ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে যায়।
গোমতীর তীরবর্তী কুমিল্লার বিবির বাজার ও গোলাবাড়ি সীমান্ত থেকে শুরু করে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৮৭টি পয়েন্টে থেকে প্রতিদিন ১৪শ থেকে ১৫শ ট্রাক মাটি অবৈধভাবে কেটে নেয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন শত শত ট্রাক এ রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করে। দিনরাত বালুর মধ্যে থাকতে হয়, এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি দেখা দিয়েছে অনেকের। এভাবে গোমতী নদী থেকে মাটি কেটে নেয়, প্রশাসন দেখে না?’ এ কাজে প্রশাসনের লোকও জড়িত আছে বলে অভিযোগ তার।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ভূমি মাশিয়াত আকতার বলেন-অভিযান চলছে তবে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। প্রশাসনের সকলকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করে মাটি কাটা প্রতিরোধ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসন।
‘তিনি বলেন-গোমতী নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জেলার গোমতীর পাড়ের বিভিন্ন জায়গা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের অর্থদণ্ড প্রদান করছে। গোমতী রক্ষার্থে প্রশাসনের সকলে মিলে কাজ করবে।
কুমিল্লার ১৪১ কিলোমিটার গোমতী বাঁধের মধ্যে কুমিল্লা সদরের টিক্কার, জগন্নাথপুর, বিবির বাজার, চাঁন্দপুর ব্রীজ,পালপাড়া,আলেখারচর,আড়াইওরা, জেলার মুরাদনগর, দেবিদ্বারের কংশনগর,বুড়িচং,ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর চর থেকে মাটি কেটে তা ট্রাক্টর যোগে বিক্রি করা হচ্ছে।
কুমিল্লা নগরসহ ৪টি উপজেলাকে বাচাঁতে অবিলম্বে অবৈধ ভাবে গোমতীর বালূ উত্তোলনও মাটিকাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর।