রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
উপকূলীয় বরগুনা জেলায় টানা তিন দিন সূর্যের দেখা নেই। পুরো জেলাজুড়েই একই অবস্থা বিরাজ করছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌষ মাস শেষ হতে এখনো ১৯ দিন বাকি থাকলেও মাঘ মাস শুরুর আগেই শীতের প্রকোপ চরম আকার ধারণ করেছে।
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার-টানা তিন দিন সকাল থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় শীত আরও তীব্র হয়েছে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সড়কে ঝুঁকিও বেড়েছে।
প্রচণ্ড শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কাজের সন্ধানে বের হয়েও কাজ পাচ্ছেন না দিনমজুররা। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কম।
রোদের অভাবে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। ধান শুকাতে না পারায় তাদের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে।
রিকশাচালক মজনু বলেন, “প্রচণ্ড ঠান্ডা আর বাতাসে মানুষ বের হচ্ছে না। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র ৯০ টাকা আয় করেছি। আগের মতো যাত্রী নেই।”
সবজি ব্যবসায়ী আলী জানান, কয়েক দিন ধরে কুয়াশা ও শীতের কারণে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিক্রি কিছুটা বাড়ে।
অটোবাইক চালক শামিম বলেন, “পেটের দায়ে রাস্তায় নামছি। কিন্তু শীতে যাত্রী কম। আগের মতো ইনকাম নেই।”
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে রোগ-বালাইও। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, “এই মৌসুমে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে এবং বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।”
এদিকে, এই হাড় কাঁপানো শীতে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভিড় বাড়ছে। তবে দিনমজুর, ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
এ অবস্থায় সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবানদের এগিয়ে এসে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।