নোয়াখালী, (সুবর্ণচর প্রতিনিধি)
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিয়ের প্রলোভনে ইয়ানুর বেগম (২৪) নামের এক নারী কে ধর্ষণ, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জহির হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের দাবিতে (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে প্রেমিকের ঘরের সামনে অনশন শুরু করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিচারের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙে বাড়িতে ফিরে গেলেও এখনো কোন সমাধান পাননি ইয়ানুর বেগম।
উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া গ্রামের কামাল বাজার সংলগ্ন আব্দুল আলীর পুত্র প্রেমিক জহিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চর নঙ্গলীয়া গ্রামের বশির উল্যাহ’র মেয়ে ইয়ানুর বেগমের সঙ্গে জহির ইসলাম
প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। এর সূত্র ধরে ওই যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ চার লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ করে। গত ২৫ নভেম্বর গভীর রাতে ইয়ানুর বেগমের ঘরে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন জহির ইসলাম, পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জহিরকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনেন তার পরিবারের লোকজন।
ভুক্তভোগী ইয়ানুর বেগম বলেন, জহির বিয়ের লোভ দেখিয়ে আমার মান- ইজ্জৎ নষ্ট করেছে, আমার টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে, বিয়ের কথা বললে সে এখন বিভিন্ন টালবাহানা করে।
অভিযুক্ত জহির পলাতক থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জহিরের ভাই কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইয়ানুর বেগমের সাথে আমার ভাই জহিরের লেনদেন রয়েছে, অবৈধ সম্পর্কের বিষয় পরে শুনেছি।
পূর্ব চরবাটা ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নিজাম উদ্দিন বলেন, জহির এবং ইয়ানুর বেগমের অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লেনদেনের বিষয়ে একটি শালিসি বৈঠক হয়েছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত জহির মানেনি।
বিষয়টি চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।