জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় না দিলে হয়তো আজ রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদ্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–তে যোগ দেওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন।
শনিবার সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে আয়োজিত এক কৈফিয়ত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মেজর রঞ্জন বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাকে আশ্রয় দিয়েছে। এই আশ্রয় না পেলে হয়তো তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো। এই বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার মতো সামর্থ্য তার নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বাস্তব অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘরে চাল নেই, চুলা নেই—এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত তাকে আশ্রয় দিয়েছে, এজন্য তিনি তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে তার রাজনৈতিক মূল্য বেড়ে গেছে। বিএনপির অনেক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা করছেন। এতে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন বছর বিএনপির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না, এমনকি ব্যক্তিগত দাওয়াতেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, তিনি নিজে দল ছাড়েননি—বরং তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন সমালোচনা হলেও সেটিকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মেজর রঞ্জন বলেন, তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তবে জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই তাকে উপযুক্ত কোনো দায়িত্বে রাখবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জামায়াতের কাছে তিনটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন—প্রথমত, তিনি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ চান। দ্বিতীয়ত, বিশৃঙ্খলা নয়—সত্য প্রকাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলাম কায়েম হোক। তৃতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যেখানে মানুষ মানুষকে সম্মান করবে।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে মেজর রঞ্জন বলেন, একজন ত্যাগী নেতাকে দেশ হারিয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বিচার নয়—হাদি যে কাজ রেখে গেছেন, তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হবে।
কৈফিয়ত সভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাইদুল হক বিএসসি, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেজর রঞ্জনের ভক্ত-সমর্থকসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।