সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
৫ আগস্টের চেতনাকে নস্যাৎ করতে এবং নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে অকুতোভয় নেতা ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী আধিপত্যবাদ কায়েমের লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে একজন হাদীকে হত্যা করে জুলাই বিপ্লবের অর্জন মুছে ফেলা যাবে না, বরং সত্য ও ন্যায়ের পথে এ দেশে লক্ষ হাদী জন্ম নেবে।
শনিবার ২০ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা ও পরবর্তী এক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। লালমনিরহাট জেলাসহ প্রতিটি উপজেলায় এই গায়েবী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, ওসমান হাদী ছিলেন আধিপত্যবাদ বিরোধী এক আপসহীন নেতা, যিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতেন। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, যারা দেশে নির্বাচন চায় না এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করছে, তারাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকাই হোক আজকের দিনের শপথ। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করা হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লালমনিরহাট সম্প্রীতির শহর। আমরা এমন কিছু করব না যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়, সম্পদ বিনষ্ট হয় বা রাষ্ট্রের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়।”
তিনি আরও বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। অপরাধী যেই হোক, তাকে অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সবাইকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো তৎপর থাকতে হবে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর বরদাশত করা হবে না।
শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই গায়েবানা জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলা প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মরহুম ওসমান হাদীর রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
উপস্থিত জনতা ও জুলাই যোদ্ধা সংসদের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওসমান হাদীর প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।