বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রিজেন্ট বোর্ডে নিয়োগ ও প্রমোশন স্থগিত, বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বিজয় দিবস বর্জন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষকদের নিয়োগ ও প্রমোশনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দুটি অংশে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের সময় এই বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের কিছু দাবি-দাওয়া উপাচার্য কর্তৃক পূরণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:১৮

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষকদের নিয়োগ ও প্রমোশনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দুটি অংশে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের সময় এই বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের কিছু দাবি-দাওয়া উপাচার্য কর্তৃক পূরণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৫৭তম সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এ মতবিরোধ দেখা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম সাইফুল ইসলামের প্রমোশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিতর্ক বিদ্যমান ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিজেন্ট বোর্ডের এক সদস্য জানান, বিধি অনুযায়ী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে চার বছরের বাস্তব শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

কিন্তু তার সে শর্ত পূরণ হয়নি। একই সঙ্গে স্বীকৃত জার্নালে মোট ১০টি গবেষণা প্রকাশনা থাকতে হয়, যার মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ন্যূনতম ছয়টি প্রকাশনা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রেও তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি অননুমোদিত উল্লেখ করে স্থগিত করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার নিয়োগের বিষয়টিও রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদন পায়নি। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগে একজন শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও অধ্যাপক জামাল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ বোর্ডকে চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পদের অনুমোদন না থাকায় নিয়োগ বোর্ড ভবিষ্যতে ইউজিসি কর্তৃক পদ অনুমোদনের শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মতামত দেয়। কিন্তু বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপিত হলে এ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত উল্লেখ করে বাতিল করা হয়। বরং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগের বিষয়ে বোর্ড সদস্যরা মতামত দেন।

এই সব সিদ্ধান্ত নিজেদের অনুকূলে না আসায় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ রিজেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা উপাচার্যের ওপর দোষারোপ শুরু করেন বলে জানা যায়। এতে পবিপ্রবির শিক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। রিজেন্ট বোর্ড-পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে উপ-উপাচার্যের গ্রুপটির সঙ্গে উপাচার্যের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জানা যায়, শেষ মুহূর্তে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বাধীন অংশটি উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলামকে দুটি শর্ত দেয়। শর্ত পূরণ হলে তারা বিজয় দিবস উদযাপনে অংশ নেবে, অন্যথায় নয়—এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

শর্ত দুটি হলো—প্রথমত, সম্প্রতি শাস্তির আওতায় আনা দুই কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে স্বপদে বহাল করা; দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্সের শিক্ষক অধ্যাপক মামুন-উর-রশিদকে নতুন অনুষদের (ওশানোগ্রাফি) ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। তবে উপাচার্য এসব শর্তে সম্মতি না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও চড়-থাপ্পর মেরে আহত করার ঘটনায় গত ৪ নভেম্বর খণ্ডকালীন কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন (মিঠু) ও মো. মাহমুদ-আল-জামানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে সেকশন অফিসার পদে পদাবনতি করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের আগে উপাচার্য একসঙ্গে দিবসটি পালনের আহ্বান জানালেও উপ-উপাচার্য গ্রুপটি শর্ত না মানলে একসঙ্গে উদযাপনে অংশ নেবে না বলে জানায়—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তীতে উপাচার্য জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণসহ অন্যান্য কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।

এ সময় উপ-উপাচার্যের গ্রুপটি উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে তারা উপাচার্যকে জামায়াতপন্থী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কর্মসূচি কেন বর্জন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, “আমরা বিগত বছরগুলোতে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সাথে একসঙ্গে কর্মসূচি করেছি। কিন্তু এবার ভিসি স্যারের কাছে আমাদের দাবি ছিল, আমরা তাদের সঙ্গে একসঙ্গে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে যাব না। ভিসি স্যার আমাদের কথা শোনেননি। তাই আমরা কর্মসূচিতে যাইনি।”

এ সময় দুই কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ ও অধ্যাপক মামুন-উর-রশিদকে নতুন অনুষদের ডিন নিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এগুলো ভুল তথ্য। এ ধরনের কোনো কথা আমাদের হয়নি।”

তবে উপ-উপাচার্য বিষয়টি অস্বীকার করলেও তার অনুগত শিক্ষক এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেন শাস্তি মওকুফের দাবির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন, “এই বিষয়গুলো তো আছেই।

ভিসি অনেক কিছু করেন, তার অনেক কাজ আমাদের কাছে অসংলগ্ন মনে হয়। রিজেন্ট বোর্ডে যেসব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছিল, তিনি সেগুলো ফিরিয়ে এনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিলে আরও জানতে পারবেন আপনারা।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপ-উপাচার্যের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ও উপাচার্যকে জিম্মি করে অনৈতিক দুটি দাবি তোলা—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। উপ-উপাচার্যসহ অন্যরা বিজয় দিবসে যে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড করেছেন, তা সংবিধানস্বীকৃত পদে থেকে করা সমীচীন নয়।

আমি বারবার একসঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু তারা আমাকে জিম্মি করে অসাদু দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছে। এসব করে কেবল পরিবেশ ঘোলাটে হয়, সফলতা আসে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বাকৃবির বিএনপিপন্থী সোনালী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ভেটেরিনারি অনুষদের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলাম। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। কিন্তু উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের সময় অবশ্যই বিধি ও নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়।

আমাকে যেভাবে অযাচিতভাবে ট্যাগিংয়ের মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা হীন প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। আমি বারবার একসঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছি। তাদের নেতৃত্বে অধ্যাপক হেমায়েত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—দুটি শর্ত পূরণ হলেই তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, নচেৎ নয়। শেষ পর্যন্ত তারা আসেননি। পরে যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, তাদের নিয়েই সুশৃঙ্খলভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।”

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি […]

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আকমল শিকদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে জামালপুর জেলার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় তিনি এক মাসের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারণা শেষে বাড়িতে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারকে হয়রানিমূলক দাবি করেছে আসাদুল্লাহর পরিবার। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা বলেন, গভীর রাতে বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলেই আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।