কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :পটুয়াখালীর মহিপুর থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাফেজ আবদুল বারেক হাওলাদার।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মহিপুর থানাধীন ইউসুফপুর গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি এসব কথা বলেন।হাফেজ আবদুল বারেক হাওলাদার বলেন, তাঁর ভাতিজা সোলায়মান হাওলাদার ও বিপ্লব হাওলাদারের চাষ করা জমির ধান জোরপূর্বক লোকজন নিয়ে কেটে নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সাজেদা বেগম নামের এক নারী মহিপুর থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তার ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে কোনো সত্যতার প্রমাণ নেই।
তিনি বলেন, তাঁকে অভিযুক্ত করে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা পরিকল্পিতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তিনি কেবল নিজের চাষ করা জমির ধানই কেটেছেন। যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেটি গত পাঁচ বছরে অন্তত দশবার মাপজোক করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যেভাবে জমি মেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমি চাষ ও ভোগদখল করে আসতিনি অভিযোগ করে বলেন, ধান কাটার মৌসুম এলেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করে তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টা করে। প্রতি মৌসুমেই একই কৌশলে তাঁকে বিব্রত করা হয়।লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি আবদুস ছাত্তার ও আয়শা বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। এবং এই মাপ যদি সোলায়মান না মানে তবে তাদের মাপ অনুযায়ী সোলায়মান সবার আগে ধান কেটে নিযেছে কেন? এটা আমার প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জমি বিক্রেতা সত্তার হাওলাদার বলেন, তিনি তাঁর জমি হাফেজ আবদুল বারেক হাওলাদারের কাছে বিক্রি করেছেন। ওই জমি হাফেজ বারেকই চাষ করেছেন এবং ধান কেটেছেন।স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, ধান চাষাবাদ সম্পূর্ণভাবে হাফেজ বারেক নিজেই করেছেন এবং ধান রাতের আঁধারে নয়, দিনের বেলাতেই কাটা হয়েছে। প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকরসংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হাফেজ আবদুল বারেক হাওলাদার বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বরিশাল ক্রাইম ট্রেস ও আপন নিউজ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হানিফ হাওলাদারের সঙ্গে অভিযোগকারীদের পরিবারের জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সীমানা নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।।
উল্লেখ্য, সোলায়মান হাওলাদার এবং অভিযোগকারী সাজেদা বেগমও সংবাদ সম্মেলন চলার সময় পাশেই দাঁড়িয়েছিলো। তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।