রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের বোরিংয়ে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে গত ২৪ ঘণ্টা ধরেই। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল জানায়, গর্তটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে, কিন্তু এখনো শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আগে স্থাপিত গভীর নলকূপের বোরিংটি প্রায় ৮০–৮৫ ফুট গভীর ছিল। ঠিক সেই বোরিংয়ের অন্ধকার, সরু—মাত্র ৮ ইঞ্চি ব্যাসের গর্তে বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে খেলতে খেলতে পড়ে যায় ছোট্ট সাজিদ। দুর্ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রথমে রশি, ক্যামেরা ও পাইপ দিয়ে অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হতে হয়। গর্তটি অতিরিক্ত সরু হওয়ায় কোনো উদ্ধারযন্ত্র নামানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে উদ্ধারকারীরা পাশের মাটিতে বড় একটি গর্ত খুঁড়ে তির্যকভাবে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন ছিল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্সকেভেটরের, যা পুরো তানোর উপজেলায় খুঁজেও পাওয়া যায়নি। অবশেষে রাত ৮টার দিকে পাশের মোহনপুর উপজেলা থেকে ছোট দুটি এক্সকেভেটর এনে খনন শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের দল।
রাতভর অভিযান চালানোর পরও শিশুটির সন্ধান মেলেনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট মাটি খোঁড়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান উদ্ধার কর্মকর্তারা। তারা বলেন, গর্তটি গভীর ও সরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে উদ্ধারকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। সবাই প্রার্থনা করছেন, ছোট্ট সাজিদ যেন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে।