মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণ লুটের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক এবং কৃষক লীগের এক নেতা রয়েছেন।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রা করছিলেন। গজারিয়া থানার কাছে পুলিশের পোশাক পরা পাঁচজনের একটি দল বাস থামিয়ে ব্যবসায়ীদের নামে মাদক মামলার ভয় দেখায়। পরে যাত্রীদের সামনেই দুই ব্যবসায়ীকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে নেয় তারা।
চোখ বেঁধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে লুট করা হয় ১৪৫ ভরি ৮ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র। পরে দুই ভাইকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
অভিযোগের পর ডিবি প্রথমে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে মাইক্রোবাসচালক মো. জাকির হোসেন (৩৮)–কে গ্রেপ্তার করে। সেখানে একই ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ ভরি স্বর্ণ ও সাত লাখ টাকা।
এরপর গ্রেপ্তার করা হয় মূল চক্রের সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান মুন্সী (৪৩)। তাঁর কাছ থেকে ৪৩ ভরি স্বর্ণ, দুই জোড়া হ্যান্ডকাফ, দুইটি ওয়াকিটকি, পুলিশের তিন সেট ইউনিফর্ম ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
জাকির ও আক্তারুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলী এলাকা থেকে মো. রমজান (৩৫)–কে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণ, স্বর্ণ মাপার স্কেল, মাই টিভির পরিচয়পত্র এবং স্বর্ণ বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা।
পরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. রমজান আলী (৪০)। তাঁর নিকট থেকে পাওয়া যায় ১৩ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ এবং এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে রমজান জানায়, লুট হওয়া স্বর্ণের ১৪ ভরি মিরপুর বড়বাগ এলাকার ইসলাম জুয়েলার্সে বিক্রি করেছে চক্রটি। পরে দোকান মালিক মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার।
মোট উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে—৯৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দুই জোড়া হ্যান্ডকাফ, দুইটি ওয়াকিটকি, পুলিশের তিন সেট ইউনিফর্ম ও সাতটি মোবাইল ফোন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার আক্তারুজ্জামান মুন্সী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাব-ইন্সপেক্টর, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার রমজান আলী কৃষক লীগের মানিকগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সভাপতি এবং আরেক রমজান শাহ আলী থানার মাই টিভির পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন।
ডিবি জানায়, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আরেকজন পালাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।