লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর–২ আসনের দলটির মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন ভূঁইয়ার এক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাঁড়িপাল্লার জনসভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যের এক অংশ—“হাশরের ময়দানে কোনও মার্কা থাকবে না, থাকবে শুধু দাঁড়িপাল্লা”—ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুতই ভাইরাল হয়েছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দাঁড়িপাল্লার জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা ন্যায়বিচারের প্রতীক; মানুষের অধিকার, ন্যায় ও স্বচ্ছতার প্রতিফলন। তাঁর দাবি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়াই মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীপুরে রেললাইন স্থাপন করা হবে, যা জেলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জামায়াতের যারা মন্ত্রী ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ ছিল না। এজন্য জনগণ আবারও জামায়াতকে সুযোগ দিলে দেশের চেহারা বদলে যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।
রুহুল আমীন অভিযোগ করেন, ক্ষমতাহীন হওয়ার পর একদল এবং ক্ষমতায় আসার আগেই আরেক দল বিভিন্ন স্থাপনা দখল করে নিচ্ছে, যা দেশের জন্য অশুভ সংকেত। তিনি বলেন, দেশে মাদকের কোনো জায়গা নেই এবং “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
রাজনীতির পবিত্রতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় রাজনীতি ছিল সেবার জায়গা, কিন্তু এখন অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত ব্যবসায় পরিণত করেছে। ভারতের নির্দেশ না মানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলেও জামায়াতকে দমন করা যায়নি; বরং জনগণের ভালোবাসা আরও বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেরোয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ দেলোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন শূরা সদস্য মো. হারুনুর রশীদ।