অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রের যাত্রা পূর্ণতা পাবে তখনই, যখন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসবেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই আগামী নির্বাচনের আগেই রোগমুক্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তাকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় দেখতে চাই। ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে—এটা দেখতে চাই।” শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০০৭ সালের ওয়ান–ইলেভেন সরকারের নির্যাতনের ইতিহাস দেশের মানুষ ভুলতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে শুধু বেগম জিয়া নয়, তার দুই সন্তান তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোকেও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।
তারেক রহমানকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, আর কোকো বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন—যা এখনো জিয়া পরিবারের বেদনাবিধুর অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। “আমার দুই সন্তান নয়, বাংলাদেশে আমার লাখো কোটি সন্তান আছে”—এই উক্তি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই খালেদা জিয়া দেশত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও দেশের মানুষের ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আবারও জনগণের পাশে দাঁড়াবেন বলে তার বিশ্বাস।
দোয়া মাহফিলে নাগরিক সমাজ, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।