রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
উপকূলীয় বরগুনার আমতলী উপজেলায় এবার রোপা আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, উন্নতমানের জাতের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ ও বাজার অনিশ্চয়তার মাঝেও এমন ফলন কৃষকদের মুখে এনেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্য ছাড়িয়ে কৃষকরা আবাদ করেছেন ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। ব্রি-২৩, ব্রি-৫২, ব্রি-৭৬, ব্রি-৮৭সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের ফলনও এসেছে আশাব্যঞ্জক।
সরেজমিনে আমতলীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যে সব ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে, কৃষকরা সেখানে ব্যাপকভাবে হারভেস্টার ব্যবহার করছেন। এতে দ্রুত ধান কাটা, ঝাড়া এবং সংগ্রহ সম্ভব হওয়ায় ব্যয়ও কমছে।
আমতলী সদর ইউনিয়নের কৃষক মো.জহিরুল আকন বলেন, “সাত বিঘা জমিতে ধান করেছি। ফলন এবার সত্যিই ভালো। নতুন ধান বাজারে উঠেছে মণপ্রতি ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায়। দাম ঠিক থাকলে লাভ হবে নিশ্চিত।”
কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষক বেল্লাল মাদবর বলেন, “চার বিঘা জমিতে ধান করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। দামও মোটামুটি ভালো।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং বীজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ফলেই এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
সব মিলিয়ে, আমতলীতে রোপা আমনের বাম্পার ফলন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কৃষকের গোলা ভরার পাশাপাশি উপজেলায় ফিরে এসেছে সোনালি স্বপ্ন, অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য আর মানুষের মুখে সন্তুষ্টির হাসি।