সাইফুল ইসলাম ,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে সারা দেশের মতো কলাপাড়ায়ও সহকারী শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে গতকাল সোমবার থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। দাবি বাস্তবায়নে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখায় আজ মঙ্গলবারও কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এতে উপজেলার সহকারী শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন।
কর্মবিরতি চলমান থাকলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা যথারীতি শুরু হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীর সহযোগিতায় পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায় সহকারী শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ‘পূর্ণদিবস কর্মবিরতি’ লেখা প্ল্যাকার্ড টেবিলে রেখে অবস্থান করছেন।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের লস্করপুর, মহিপুর ও মোয়াজ্জেমপুর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একইভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। এসব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন কেবল প্রধান শিক্ষকরা।
মোয়াজ্জেমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত রুনা, ফেরদৌস জাহান, সুমি আক্তার, কুলসুম আক্তার ও রোজিনা জানান, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে তারা তাদের যৌক্তিক দাবির জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন, যা এখনো চলমান।
উপজেলার ১৭২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৪টিতে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক রয়েছেন; ৬৪টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ৭৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক আছেন তারা আরও বলেন, দশম গ্রেড বাস্তবায়ন, উচ্চতর গ্রেড প্রদান, শতভাগ পদোন্নতি—এ সকল দাবি ইতোমধ্যে সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
৩০ নভেম্বর অনলাইনে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষাবর্জন ও কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
মোয়াজ্জেমপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা বেগম চম্পা বলেন,
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি একাই পরীক্ষা নিচ্ছি। সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবি আমি যৌক্তিক মনে করি।
একই বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা এক কক্ষে নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের লস্করপুর বিদ্যালয়ে দেখা গেছে একই চিত্র—প্রধান শিক্ষক তহমিনা আক্তার রুবী একাই পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তৃপ্তি রানী ভৌমিককে সহযোগিতা করছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি।
কর্মবিরতিতে থাকা সহকারী শিক্ষকরা বলেন,সরকার এখনই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করলে আমরা পরীক্ষা নিতে ফিরে যাব। প্রয়োজনে শুক্র–শনিবারও পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এদিকে অনেক অভিভাবক মনে করছেন,
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আন্দোলনে গেলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মান আরও নিশ্চিত হতো। বছরের পর বছর পাঠদান করা শিক্ষক পরীক্ষার সময় অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা চাপের মুখে পড়ছে।
কর্মবিরতি ও পরীক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ দ্রুত সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।