রাব্বিকুল ইসলাম,দুমকী প্রতিনিধিঃ
গ্রামবাংলার শীতকাল এলেই খেজুর গাছের রস সংগ্রহ ছিল এক অনন্য ঐতিহ্য। ভোরের ঠান্ডা বাতাসে টাটকা রসের ঘ্রাণ, গুড় জ্বালানো ধোঁয়া, আর পিঠা-পায়েসের উৎসব—সব মিলিয়ে শীতের সকাল মানেই ছিল আনন্দময় পরিবেশ। এখন সেই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। কারণ দিন দিন কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ, কমে গেছে দক্ষ গাছিয়াও।
দুমকী উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া, মুরাদিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে—আগে যেখানে রাস্তাজুড়ে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত, এখন সেখানে অল্প কিছু গাছ টিকে আছে মাত্র। অনেক গাছ মরে গেছে, অনেকগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, আর নতুন করে রোপনও খুব একটা হয় না। ফলে শীত এলেও আগের মতো রস পাওয়া যায় না।
এ বছরও দুমকীর কিছু অভিজ্ঞ গাছিয়া গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের কাজে নেমেছেন। মুরাদিয়া ইউনিয়নের ফোরকান মাঝি বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও ১৮–২০টা গাছ পরিষ্কার করেছি।
আশা করছি দ্রুতই রস পাওয়া শুরু হবে।” শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার মৃধা জানান, তিনি ১২টি গাছ প্রস্তুত করেছেন এবং সামনের সপ্তাহেই রস সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশাবাদী। তবে তারা দুজনেই স্বীকার করেন—দক্ষ গাছিয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন আগের মতো রস সংগ্রহ হয় না।
স্থানীয়রা জানান, রসের চাহিদা আগের মতোই বেশি। কিন্তু গাছ কমে যাওয়ায় রস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে দামও বাড়ছে। অনেকেই রস কিনে পিঠা-পায়েস বানালেও আগের মতো আনন্দ বা স্বাদ আর পাওয়া যায় না বলে তারা মনে করেন।এ বিষয়ে দুমকী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন,
“খেজুর রস এখনো একটি জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা এবং রোপনের অভাবে গাছের সংখ্যা কমছে। আমাদের পক্ষ থেকে খেজুর গাছ রোপন ও পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হয়।”
গ্রামের মানুষের মতে, সঠিকভাবে গাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে চারা রোপন করা গেলে আবারও শীতের ভোরে খেজুর রসের সেই পুরোনো স্বাদ ও আনন্দ ফিরে পাওয়া সম্ভব। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সকলের।